হাতে থাকা মুদ্রার ডিজাইনের দিকে তাকালে এর গায়ে থাকা ছোট ছোট খাঁজ বা সরু দাগের বিষয়টি অনেকেরই চোখে পড়ে। মুদ্রার এই বিশেষ নকশাটি নিছক সৌন্দর্যের জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক জালিয়াতি রোধ এবং আধুনিক মুদ্রা প্রযুক্তির নানা কৌশল।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, একসময় সোনা ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতু দিয়ে কয়েন তৈরি করা হতো, যার গায়ে খোদাই করা মূল্যমানের পাশাপাশি ধাতুর নিজস্ব আর্থিক মূল্যও ছিল। এই সুযোগে অসাধু চক্র মুদ্রার ধার থেকে অল্প অল্প ধাতু কেটে সরিয়ে নিত, যা ‘কয়েন ক্লিপিং’ নামে পরিচিত ছিল। এর ফলে কয়েনের ওজন ও প্রকৃত মূল্য কমে যেত। এই জালিয়াতি রুখতেই সপ্তদশ শতকে মুদ্রার ধারে খাঁজযুক্ত বা ‘মিলড এজ’ নকশার প্রচলন শুরু হয়, যাতে কেউ ধাতু কাটলেই তা সহজেই ধরা পড়ে।
বর্তমানে আধুনিক মুদ্রায় মূল্যবান ধাতু ব্যবহার না করা হলেও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এবং নিরাপত্তার খাতিরে কয়েনের এই খাঁজকাটা প্রান্ত বজায় রাখা হয়েছে। এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেন সহজে স্পর্শের মাধ্যমে মুদ্রা চিনে নিতে পারেন, সে জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থায় এই খাঁজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


























