ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের (এক্সিট পোল) ফল প্রকাশের পর দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘোষণা করেছেন ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের সাধারণ মানুষ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব বর্জন করেছে এবং একটি দায়িত্বশীল ও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
এক ভাষণে আইজেনকোট বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ইসরায়েলের জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। প্রাপ্ত ফলে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু নিজ সমর্থকদের তুলনায় এক বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে দেশের মূল কর্মক্ষম ও সেবা প্রদানকারী শ্রেণি পরিবর্তনের পক্ষেই নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। এই ব্যর্থ সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে জনগণ সরকারপ্রধানকে ক্ষমতা ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল নেতার উচিত মানুষের এই রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো।
পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন হলেও নতুন করে আবার নির্বাচনে যাওয়া এক মারাত্মক ভুল হবে। জনগণের রায় কার্যকর করাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব। দীর্ঘদিনের বিভাজন ও ব্যর্থতার সংস্কৃতি থেকে দেশের মানুষ পরিত্রাণ চায় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাঁদের দল শুরু থেকেই ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকল্প হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
একই সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপের মুখে মাথা নত না করার আহ্বান জানান তিনি। আইজেনকোট জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসন কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা দলের নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত। নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে তিনি দেশের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করারও হুঁশিয়ারি দেন।
ভবিষ্যৎ সরকার দেশের সার্বিক ঐক্য ও মূল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন আইজেনকোট। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি দলের জয় নয়, বরং সমগ্র ইসরায়েলি জনগণের বিজয়। বিভেদ ও বিদ্বেষের অবসান ঘটিয়ে দেশ এখন নতুন আশা ও সম্প্রীতির যুগে প্রবেশ করছে।
























