ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতি কেবল সৌদি আরবের সীমান্ত নিরাপত্তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং লোহিত সাগরের নৌপথ, জ্বালানি অবকাঠামো, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং তেহরান-রিয়াদ কৌশলগত দ্বন্দ্বের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। সুরক্ষার প্রশ্নে সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক মিত্রদের প্রতি আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে নতুন এক মাত্রা যুক্ত করেছে।
ইয়েমেনের চলমান সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে একটি অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত হলেও বাস্তবতা হলো, তা দেশের ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ভূরাজনীতির অন্যতম নির্ণায়ক উপাদানে রূপ নিয়েছে। লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি লোহিত সাগর-সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে হুথিদের ভূখণ্ডগত অগ্রগতি সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় আকাশপথে হামলা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সৌদি আরবের জন্য জটিল নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। একদিকে মিত্র সরকারের ভঙ্গুর অবস্থা, অন্যদিকে সীমান্তজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি—দুই সংকটে পড়েছে রিয়াদ।
হুথি আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক নাম আনসারুল্লাহ। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে জায়েদি শিয়া সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক-ধর্মীয় আন্দোলন থেকে ২০০০-এর দশকে এর সামরিক রূপান্তর ঘটে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে এই লড়াই সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। দীর্ঘ এ সংঘাত এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।























