মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৪৯ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ব্ল্যাক ফ্রাইডের ছাড়ে কেনাকাটা: কী বলছে ইসলাম?

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বছরের শেষভাগে বিশ্বজুড়ে কেনাকাটার অন্যতম জনপ্রিয় আয়োজন ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’। বিভিন্ন ই-কমার্স ও রিটেইল শপ এই উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ ছাড়ের কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। বাংলাদেশেও অনলাইনে কেনাকাটার প্রসার ঘটায় ব্ল্যাক ফ্রাইডে কেন্দ্রিক কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ছে। তবে মুসলমানদের মনে প্রশ্ন উঠছে—ব্ল্যাক ফ্রাইডের ছাড়ে কেনাকাটা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে হালাল নাকি হারাম?

ইসলামভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, শরিয়া নীতি অনুসরণ করে কেনাকাটা করলে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিশেষ মূল্যছাড় গ্রহণ করা সাধারণভাবে বৈধ। তবে অপচয়, প্রতারণা বা কোনো নিষিদ্ধ বস্তু কেনাকাটা এড়িয়ে চলা আবশ্যক।

মূলত থ্যাংকসগিভিং দিবসের পরের শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে এই কেনাকাটার আয়োজন শুরু হলেও এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এটি একটি বাণিজ্যিক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় প্রয়োজনীয় পণ্য সুলভ মূল্যে কেনার সুযোগ থাকে, তবে অযৌক্তিক প্রচারণায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ইসলামি শরিয়াহ মতে, কেবল ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ নামের কোনো বাণিজ্যিক বিক্রয় আয়োজনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাম বলা যায় না। বৈধ পণ্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম দামে কেনা ক্রেতার জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।

তবে কেনাকাটা বৈধ রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:

১. অপচয় রোধ: কেবল ছাড়ের প্রলোভনে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

২. নিষিদ্ধ পণ্য এড়িয়ে চলা: মূল্যছাড় থাকলেও ইসলামে যেসব পণ্য ব্যবহার বা লেনদেন হারাম, তা কেনা যাবে না।

৩. প্রতারণা ও ভুয়া ছাড়: ভুয়া মূল্য বাড়িয়ে ছাড়ের নাটক করা বা পণ্যের ত্রুটি গোপন করা ব্যবসায়িক নৈতিকতাবিরোধী।

৪. ধর্মীয় কর্তব্যে অবহেলা না করা: কেনাকাটার ব্যস্ততায় সালাত বা জুমার নামাজসহ দৈনন্দিন ইবাদত কাজ যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

সুতরাং, সামগ্রিক লেনদেন ও পণ্যের ধরন হালাল হলে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে কেনাকাটা করা পুরোপুরি বৈধ।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজবাড়ী শহরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী নেতাকে গুলি

27 October 2026

জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা: ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ব্ল্যাক ফ্রাইডের ছাড়ে কেনাকাটা: কী বলছে ইসলাম?

হালনাগাদ সময় : ০৯:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বছরের শেষভাগে বিশ্বজুড়ে কেনাকাটার অন্যতম জনপ্রিয় আয়োজন ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’। বিভিন্ন ই-কমার্স ও রিটেইল শপ এই উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ ছাড়ের কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। বাংলাদেশেও অনলাইনে কেনাকাটার প্রসার ঘটায় ব্ল্যাক ফ্রাইডে কেন্দ্রিক কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ছে। তবে মুসলমানদের মনে প্রশ্ন উঠছে—ব্ল্যাক ফ্রাইডের ছাড়ে কেনাকাটা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে হালাল নাকি হারাম?

ইসলামভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, শরিয়া নীতি অনুসরণ করে কেনাকাটা করলে ব্ল্যাক ফ্রাইডের বিশেষ মূল্যছাড় গ্রহণ করা সাধারণভাবে বৈধ। তবে অপচয়, প্রতারণা বা কোনো নিষিদ্ধ বস্তু কেনাকাটা এড়িয়ে চলা আবশ্যক।

মূলত থ্যাংকসগিভিং দিবসের পরের শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে এই কেনাকাটার আয়োজন শুরু হলেও এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এটি একটি বাণিজ্যিক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় প্রয়োজনীয় পণ্য সুলভ মূল্যে কেনার সুযোগ থাকে, তবে অযৌক্তিক প্রচারণায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ইসলামি শরিয়াহ মতে, কেবল ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ নামের কোনো বাণিজ্যিক বিক্রয় আয়োজনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাম বলা যায় না। বৈধ পণ্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কম দামে কেনা ক্রেতার জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।

তবে কেনাকাটা বৈধ রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:

১. অপচয় রোধ: কেবল ছাড়ের প্রলোভনে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

২. নিষিদ্ধ পণ্য এড়িয়ে চলা: মূল্যছাড় থাকলেও ইসলামে যেসব পণ্য ব্যবহার বা লেনদেন হারাম, তা কেনা যাবে না।

৩. প্রতারণা ও ভুয়া ছাড়: ভুয়া মূল্য বাড়িয়ে ছাড়ের নাটক করা বা পণ্যের ত্রুটি গোপন করা ব্যবসায়িক নৈতিকতাবিরোধী।

৪. ধর্মীয় কর্তব্যে অবহেলা না করা: কেনাকাটার ব্যস্ততায় সালাত বা জুমার নামাজসহ দৈনন্দিন ইবাদত কাজ যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

সুতরাং, সামগ্রিক লেনদেন ও পণ্যের ধরন হালাল হলে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে কেনাকাটা করা পুরোপুরি বৈধ।

Share this news as a Photo Card