মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:৫৮ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বে ১১৪ দেশে স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ: বাংলাদেশের বাস্তবতা ও করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ভাবনা

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে বিশ্বজুড়ে বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিশ্বের ১১৪টি দেশে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যা বিশ্বের মোট দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ।

এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুন মাসেও যেখানে বিশ্বের মাত্র ২৪ শতাংশ দেশে এই নিয়ম চালু ছিল, ২০২৫ সালের শুরুতে তা পৌঁছেছিল ৪০ শতাংশে। এরপর চলতি ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়ে ৫৮ শতাংশে উন্নীত হয়।

তবে উন্নত বিশ্বে কার্যকর হওয়া এসব নীতি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সরাসরি প্রয়োগ করা সমীচীন হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ, শিক্ষাদানের পদ্ধতি, পারিবারিক বিন্যাস এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা উন্নত দেশগুলোর মতো এক নয়। ফলে বাইরের দেশের অনুকরণে অন্ধভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ইউনেস্কোর জিইএম প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বলিভিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, জর্জিয়া, মালদ্বীপ ও মাল্টাসহ বহু দেশ জাতীয় পর্যায়ে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এই নিয়মের ধরনে দেশভেদে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো কোনো দেশে পুরো স্কুল সময়জুড়েই ফোন সাথে রাখা পুরোপুরি নিষিদ্ধ, আবার কোথাও কেবল পাঠ চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু দেশে শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম, অসুস্থ শিক্ষার্থী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য শর্তসাপেক্ষে ফোন ব্যবহারের ছাড়ও রাখা হয়েছে।

যেমন ফ্রান্সে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বা জাতীয় পর্যায়ে একক সিদ্ধান্ত না থাকলেও ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে ফোন ব্যবহারে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি রাজ্যে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং ২৪টি রাজ্যে স্ব স্ব স্কুল ডিস্ট্রিক্টকে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ইংল্যান্ডেও স্কুলের সময় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণের দায়িত্ব রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও নির্দেশক অধ্যাপক মলয় ভৌমিক মনে করেন, আধুনিক যুগ ও নিউ মিডিয়ার প্রযুক্তিগত বিকাশকে অস্বীকার করে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে রেখে তাকে ইতিবাচক কল্যাণে রূপান্তর করতে হবে।

তিনি স্কুল পর্যায়ে মোবাইল বন্ধ করার প্রাথমিক ধারণাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, অন্তত মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর হাতে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন তুলে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ‘বন্ধ’ শব্দের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা স্পষ্ট হওয়া দরকার। স্কুলে ফোন ব্যবহার বন্ধ থাকলেও জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের যোগাযোগের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক, যা নিয়ন্ত্রণ করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

অধ্যাপক ভৌমিক আরও উল্লেখ করেন, কেবল স্কুলে ডিভাইস নিষিদ্ধ করে কোনো টেকসই সমাধান আসবে না, পারিবারিক সচেতনতাও সমান্তরালে বাড়াতে হবে। বর্তমান সময়ে অনেক বাবা-মা নিজেরা টেলিভিশন বা মোবাইলে মগ্ন থাকেন এবং সন্তানকে শান্ত রাখতে তাদের হাতে স্মার্টফোন বা গেম ছেড়ে দেন। তাই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন না দিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেম ও অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল উপকরণ থেকে দূরে রাখা জরুরি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের কেবল মুখস্থ পরীক্ষা ও জিপিএ-কেন্দ্রিক পড়াশোনার বৃত্তে বন্দি রাখা উচিত নয়। তাদের গল্প-কবিতার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, ছবি আঁকা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধুলা এবং প্রকৃতির সংস্পর্শে বড় হওয়ার অবারিত সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এসব স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ফলেই তারা ক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর ও একমুখী হয়ে পড়ছে।

শিক্ষার্থীরা বর্তমানে মূল পাঠ্যবই বা সাহিত্য পাঠ এড়িয়ে অনলাইন সামারি বা এআইয়ের তৈরি সংক্ষিপ্ত উত্তরের ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি বলেন, গুগল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সহজেই যে কোনো গল্প-কবিতার ভাবার্থ পেয়ে যাওয়ায় তারা মৌলিক পাঠের আনন্দ হারাচ্ছে এবং খণ্ডিত জ্ঞান নিয়ে বড় হচ্ছে।

তার মতে, কেবল পরীক্ষার খাতায় লেখার ভিত্তিতে মূল্যায়ন পদ্ধতি যথেষ্ট নয়; বরং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক আচরণ, সৃজনশীলতা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকেও মূল্যায়নে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী নিজে লিখছে নাকি এআই বা মোবাইল থেকে তথ্য ধার করে আনছে, তা যাচাই করার জন্য শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়াও অপরিহার্য।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেসব দেশে স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের শিক্ষাদর্শন ও সামাজিক কাঠামো বাংলাদেশের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের দেশে সরকারি স্কুল, বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম এবং বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসার মতো একাধিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। তাই বাইরের কোনো প্রেসক্রিপশন সরাসরি প্রয়োগের আগে আমাদের নিজস্ব বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

একই বিষয়ে শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী জানান, মোবাইল ফোনকে পুরোপুরি বাতিল করা বাস্তবসম্মত না হলেও এর ক্ষতিকর দিকগুলো অবশ্যই সুনির্দিষ্ট নজরদারির মধ্যে আনা সম্ভব। বিশ্বের বহু দেশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশেও ঝুঁকি তৈরি করে এমন ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, যেখানে অভিভাবকরাও নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়বস্তু ব্লক করে রাখতে পারেন।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু স্কুল ক্যাম্পাসে বিধিনিষেধ আরোপ করে ফল আসবে না, বাড়িতেও এর পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলের বিধিনিষেধের পাশাপাশি অভিভাবকরাও বাড়িতে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ব্লক করে রাখেন। বাংলাদেশে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হলে শিক্ষক-অভিভাবকসহ সব অংশীজনকে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে সমস্যা চরম রূপ না নেওয়া পর্যন্ত কোনো বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। কিন্তু মোবাইল ফোনের ক্ষতি থেকে শিশুদের বাঁচাতে এখনই পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া দরকার। শিশুদের একা দায়ী না করে তাদের মানসিক বিকাশের জন্য স্বাভাবিক বিকল্প পরিবেশ দিতে হবে। করোনা মহামারির পর থেকে তাদের ডিজিটাল ব্যবহারের পরিধি বেড়ে গেছে, অন্যদিকে খেলাধুলার উন্মুক্ত মাঠ, সাঁতার কাটা বা শরীরচর্চার ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

‘ব্রয়লার মুরগির মতো খাঁচাবন্দি’ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফেরাতে গল্পবলা, আঁকাআঁকি ও মুক্ত বিনোদনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিকল্প বিনোদন না দিয়ে কেবল মুঠোফোন কেড়ে নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। এর জন্য পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীনও মনে করেন, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত রাখা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। কারণ করোনাকালে ডিভাইস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত অনলাইন গেমিং আসক্তি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।

শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতিকর নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে তিনি পরিবার ও বিদ্যালয়কে যৌথভাবে স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ, বিকল্প শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ তৈরি এবং সন্তানদের সামনে বাবা-মায়ের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের প্রবণতা কমানোর তাগিদ দেন। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্পোর্টস, সায়েন্স ক্লাব ও আইটি ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা অন্য সৃজনশীল খাতে পরিচালিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক অবশ্য বিষয়টিকে শুধু ‘মোবাইল নিষিদ্ধ’ হিসেবে দেখার চেয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ব্যবহারবিধি বা নীতিমালার আলোকেই দেখতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের ডিজিটাল বিশ্বে মোবাইল ছাড়াও ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার শিক্ষার আবশ্যক অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারিক অবদান সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি মনে করেন, দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢালাওভাবে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের ধরন, শিক্ষার্থীদের বয়স এবং স্থানীয় বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে একটি বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার নির্দেশিকা তৈরি করা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। কোথায়, কখন এবং কোন সুনির্দিষ্ট শিক্ষা উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা বৈধ হবে, নীতিমালায় তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। একই সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ঝুঁকি প্রতিরোধের বিষয়গুলোও সমন্বিত করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশও এখন অন্ধ নিষেধাজ্ঞার পথ থেকে সরে এসে দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ব্যবহারের কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।

সারগ্রাহী পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞরা একমত যে, স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি ডিজিটাল ডিভাইস বন্ধের সরল বিষয় নয়। এর সাথে পরিবারের সচেতনতা, শিক্ষকবৃন্দের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষাক্রমের আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা, শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং বাংলাদেশের বহুবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব সক্ষমতা গভীরভাবে জড়িত। ফলে বিদেশের দেখাদেখি হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে ক্ষতিকর আসক্তি থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করে তোলার সমন্বিত নীতি গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় গ্রিডে বিভ্রাট: ঢাকার রামপুরা, গুলশান, মতিঝিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন

27 October 2026

মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বিশ্বে ১১৪ দেশে স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ: বাংলাদেশের বাস্তবতা ও করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ভাবনা

হালনাগাদ সময় : ০৯:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে বিশ্বজুড়ে বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং (জিইএম) প্রতিবেদনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিশ্বের ১১৪টি দেশে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যা বিশ্বের মোট দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ।

এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুন মাসেও যেখানে বিশ্বের মাত্র ২৪ শতাংশ দেশে এই নিয়ম চালু ছিল, ২০২৫ সালের শুরুতে তা পৌঁছেছিল ৪০ শতাংশে। এরপর চলতি ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়ে ৫৮ শতাংশে উন্নীত হয়।

তবে উন্নত বিশ্বে কার্যকর হওয়া এসব নীতি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সরাসরি প্রয়োগ করা সমীচীন হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ, শিক্ষাদানের পদ্ধতি, পারিবারিক বিন্যাস এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা উন্নত দেশগুলোর মতো এক নয়। ফলে বাইরের দেশের অনুকরণে অন্ধভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ইউনেস্কোর জিইএম প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বলিভিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, জর্জিয়া, মালদ্বীপ ও মাল্টাসহ বহু দেশ জাতীয় পর্যায়ে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এই নিয়মের ধরনে দেশভেদে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো কোনো দেশে পুরো স্কুল সময়জুড়েই ফোন সাথে রাখা পুরোপুরি নিষিদ্ধ, আবার কোথাও কেবল পাঠ চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কিছু দেশে শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম, অসুস্থ শিক্ষার্থী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য শর্তসাপেক্ষে ফোন ব্যবহারের ছাড়ও রাখা হয়েছে।

যেমন ফ্রান্সে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বা জাতীয় পর্যায়ে একক সিদ্ধান্ত না থাকলেও ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে ফোন ব্যবহারে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি রাজ্যে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং ২৪টি রাজ্যে স্ব স্ব স্কুল ডিস্ট্রিক্টকে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়নের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ইংল্যান্ডেও স্কুলের সময় মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণের দায়িত্ব রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও নির্দেশক অধ্যাপক মলয় ভৌমিক মনে করেন, আধুনিক যুগ ও নিউ মিডিয়ার প্রযুক্তিগত বিকাশকে অস্বীকার করে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে রেখে তাকে ইতিবাচক কল্যাণে রূপান্তর করতে হবে।

তিনি স্কুল পর্যায়ে মোবাইল বন্ধ করার প্রাথমিক ধারণাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, অন্তত মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর হাতে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন তুলে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ‘বন্ধ’ শব্দের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা স্পষ্ট হওয়া দরকার। স্কুলে ফোন ব্যবহার বন্ধ থাকলেও জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের যোগাযোগের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক, যা নিয়ন্ত্রণ করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

অধ্যাপক ভৌমিক আরও উল্লেখ করেন, কেবল স্কুলে ডিভাইস নিষিদ্ধ করে কোনো টেকসই সমাধান আসবে না, পারিবারিক সচেতনতাও সমান্তরালে বাড়াতে হবে। বর্তমান সময়ে অনেক বাবা-মা নিজেরা টেলিভিশন বা মোবাইলে মগ্ন থাকেন এবং সন্তানকে শান্ত রাখতে তাদের হাতে স্মার্টফোন বা গেম ছেড়ে দেন। তাই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন না দিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেম ও অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল উপকরণ থেকে দূরে রাখা জরুরি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের কেবল মুখস্থ পরীক্ষা ও জিপিএ-কেন্দ্রিক পড়াশোনার বৃত্তে বন্দি রাখা উচিত নয়। তাদের গল্প-কবিতার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, ছবি আঁকা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধুলা এবং প্রকৃতির সংস্পর্শে বড় হওয়ার অবারিত সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এসব স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ফলেই তারা ক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর ও একমুখী হয়ে পড়ছে।

শিক্ষার্থীরা বর্তমানে মূল পাঠ্যবই বা সাহিত্য পাঠ এড়িয়ে অনলাইন সামারি বা এআইয়ের তৈরি সংক্ষিপ্ত উত্তরের ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি বলেন, গুগল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সহজেই যে কোনো গল্প-কবিতার ভাবার্থ পেয়ে যাওয়ায় তারা মৌলিক পাঠের আনন্দ হারাচ্ছে এবং খণ্ডিত জ্ঞান নিয়ে বড় হচ্ছে।

তার মতে, কেবল পরীক্ষার খাতায় লেখার ভিত্তিতে মূল্যায়ন পদ্ধতি যথেষ্ট নয়; বরং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক আচরণ, সৃজনশীলতা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকেও মূল্যায়নে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী নিজে লিখছে নাকি এআই বা মোবাইল থেকে তথ্য ধার করে আনছে, তা যাচাই করার জন্য শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়াও অপরিহার্য।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেসব দেশে স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের শিক্ষাদর্শন ও সামাজিক কাঠামো বাংলাদেশের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের দেশে সরকারি স্কুল, বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম এবং বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসার মতো একাধিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। তাই বাইরের কোনো প্রেসক্রিপশন সরাসরি প্রয়োগের আগে আমাদের নিজস্ব বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

একই বিষয়ে শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধূরী জানান, মোবাইল ফোনকে পুরোপুরি বাতিল করা বাস্তবসম্মত না হলেও এর ক্ষতিকর দিকগুলো অবশ্যই সুনির্দিষ্ট নজরদারির মধ্যে আনা সম্ভব। বিশ্বের বহু দেশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশেও ঝুঁকি তৈরি করে এমন ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, যেখানে অভিভাবকরাও নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়বস্তু ব্লক করে রাখতে পারেন।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু স্কুল ক্যাম্পাসে বিধিনিষেধ আরোপ করে ফল আসবে না, বাড়িতেও এর পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলের বিধিনিষেধের পাশাপাশি অভিভাবকরাও বাড়িতে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ব্লক করে রাখেন। বাংলাদেশে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হলে শিক্ষক-অভিভাবকসহ সব অংশীজনকে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে সমস্যা চরম রূপ না নেওয়া পর্যন্ত কোনো বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। কিন্তু মোবাইল ফোনের ক্ষতি থেকে শিশুদের বাঁচাতে এখনই পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া দরকার। শিশুদের একা দায়ী না করে তাদের মানসিক বিকাশের জন্য স্বাভাবিক বিকল্প পরিবেশ দিতে হবে। করোনা মহামারির পর থেকে তাদের ডিজিটাল ব্যবহারের পরিধি বেড়ে গেছে, অন্যদিকে খেলাধুলার উন্মুক্ত মাঠ, সাঁতার কাটা বা শরীরচর্চার ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

‘ব্রয়লার মুরগির মতো খাঁচাবন্দি’ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফেরাতে গল্পবলা, আঁকাআঁকি ও মুক্ত বিনোদনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিকল্প বিনোদন না দিয়ে কেবল মুঠোফোন কেড়ে নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। এর জন্য পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীনও মনে করেন, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত রাখা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। কারণ করোনাকালে ডিভাইস ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত অনলাইন গেমিং আসক্তি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।

শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতিকর নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে তিনি পরিবার ও বিদ্যালয়কে যৌথভাবে স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ, বিকল্প শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ তৈরি এবং সন্তানদের সামনে বাবা-মায়ের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের প্রবণতা কমানোর তাগিদ দেন। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্পোর্টস, সায়েন্স ক্লাব ও আইটি ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা অন্য সৃজনশীল খাতে পরিচালিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক অবশ্য বিষয়টিকে শুধু ‘মোবাইল নিষিদ্ধ’ হিসেবে দেখার চেয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ব্যবহারবিধি বা নীতিমালার আলোকেই দেখতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের ডিজিটাল বিশ্বে মোবাইল ছাড়াও ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার শিক্ষার আবশ্যক অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারিক অবদান সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি মনে করেন, দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢালাওভাবে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের ধরন, শিক্ষার্থীদের বয়স এবং স্থানীয় বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে একটি বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার নির্দেশিকা তৈরি করা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। কোথায়, কখন এবং কোন সুনির্দিষ্ট শিক্ষা উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা বৈধ হবে, নীতিমালায় তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। একই সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ঝুঁকি প্রতিরোধের বিষয়গুলোও সমন্বিত করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশও এখন অন্ধ নিষেধাজ্ঞার পথ থেকে সরে এসে দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ব্যবহারের কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।

সারগ্রাহী পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞরা একমত যে, স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি ডিজিটাল ডিভাইস বন্ধের সরল বিষয় নয়। এর সাথে পরিবারের সচেতনতা, শিক্ষকবৃন্দের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শিক্ষাক্রমের আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা, শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং বাংলাদেশের বহুবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব সক্ষমতা গভীরভাবে জড়িত। ফলে বিদেশের দেখাদেখি হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে ক্ষতিকর আসক্তি থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করে তোলার সমন্বিত নীতি গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

Share this news as a Photo Card