মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:২৫ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ডিপ্লোমেটিক এলাকায় ভুয়া গোয়েন্দা কর্মকর্তার তৎপরতা নস্যাৎ: অনিবন্ধিত বাইকসহ আটক ১

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর অভিজাত ও সংবেদনশীল গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরার অভিযোগে মো. সাঈফ ইমরান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে গুলশানের পাকিস্তান হাইকমিশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাঈফ ইমরানের স্থায়ী নিবাস সিলেট জেলায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, সাঈফ ইমরানকে আটকের পর তার দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি রেইনকোট, একটি মোবাইল ব্যাকপ্যাক, ডিজিএফআইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রতীক সংবলিত একটি কালো রঙের মানিব্যাগ, সেনাবাহিনীর মনোগ্রামযুক্ত চাবির রিংসহ দুটি চাবি এবং দুটি সক্রিয় স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ফোন দুটির মধ্যে একটি আইফোন ১১ এবং অপরটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১০এস মডেলের। এর বাইরে তার নিয়ন্ত্রণ থেকে একটি সম্পূর্ণ অনিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশনবিহীন) সাদা রঙের রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাঈফ ইমরান অকপটে স্বীকার করেন যে তিনি ডিজিএফআই কিংবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো পর্যায়েরই সদস্য বা কর্মকর্তা নন। পরবর্তীতে ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তার প্রদত্ত তথ্য ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে ভুয়া পরিচয়ের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে পাকিস্তান হাইকমিশনের পাশে একটি মোটরসাইকেল পার্ক করার সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কাছে ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘সাইফ ইমরান এডি, ডিজিএফআই’ (সহকারী পরিচালক) হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার অদ্ভুত পোশাক ও অস্বাভাবিক আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনে এবং একপর্যায়ে আটক করে।

রোববার (৩০ আগস্ট) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন এই গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাতে স্পর্শকাতর কূটনৈতিক এলাকা থেকে সাঈফ ইমরানকে আটক করা হয়েছিল। পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দ্য আর্ট অব ডুইং নাথিং’: ব্যস্ত জীবনে একটু জিরিয়ে নেওয়ার শিল্প

27 October 2026

ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজার ৭১

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ডিপ্লোমেটিক এলাকায় ভুয়া গোয়েন্দা কর্মকর্তার তৎপরতা নস্যাৎ: অনিবন্ধিত বাইকসহ আটক ১

হালনাগাদ সময় : ০৪:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর অভিজাত ও সংবেদনশীল গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরার অভিযোগে মো. সাঈফ ইমরান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে গুলশানের পাকিস্তান হাইকমিশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাঈফ ইমরানের স্থায়ী নিবাস সিলেট জেলায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, সাঈফ ইমরানকে আটকের পর তার দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি রেইনকোট, একটি মোবাইল ব্যাকপ্যাক, ডিজিএফআইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রতীক সংবলিত একটি কালো রঙের মানিব্যাগ, সেনাবাহিনীর মনোগ্রামযুক্ত চাবির রিংসহ দুটি চাবি এবং দুটি সক্রিয় স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ফোন দুটির মধ্যে একটি আইফোন ১১ এবং অপরটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১০এস মডেলের। এর বাইরে তার নিয়ন্ত্রণ থেকে একটি সম্পূর্ণ অনিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশনবিহীন) সাদা রঙের রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাঈফ ইমরান অকপটে স্বীকার করেন যে তিনি ডিজিএফআই কিংবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো পর্যায়েরই সদস্য বা কর্মকর্তা নন। পরবর্তীতে ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তার প্রদত্ত তথ্য ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে ভুয়া পরিচয়ের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে পাকিস্তান হাইকমিশনের পাশে একটি মোটরসাইকেল পার্ক করার সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কাছে ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘সাইফ ইমরান এডি, ডিজিএফআই’ (সহকারী পরিচালক) হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার অদ্ভুত পোশাক ও অস্বাভাবিক আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনে এবং একপর্যায়ে আটক করে।

রোববার (৩০ আগস্ট) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন এই গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাতে স্পর্শকাতর কূটনৈতিক এলাকা থেকে সাঈফ ইমরানকে আটক করা হয়েছিল। পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card