মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৩৩ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ভারতের ঋণখেলাপি দুই ভাইয়ের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি আদালত

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ঋণখেলাপিদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার এক বিরল পন্থা অবলম্বনের দ্বার উন্মোচন করেছে ভারতের আদালত। সাম্প্রতিক এক রায়ে দেখা যায়, ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত ধনকুবের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ নির্দিষ্ট পরিমাণ দেনা শোধের বিনিময়ে প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

আদালতের ওয়েবসাইটে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের আদেশে দেখা যায়, নীতিন ও চেতন সন্দেসারের আইনজীবী মুকুল রোহতগিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, দুই ভাই ৫৭ কোটি ডলার পরিশোধে রাজি হয়েছে এবং আদালত ১৭ ডিসেম্বরের পুরো বিষয়টি মীমাংসার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

রোহতগি আদালতকে বলেন, তার মক্কেলরা সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে সমঝোতায় রাজি হয়েছে এবং তাই তারা সব মামলা-প্রক্রিয়া বাতিলের অনুরোধ জানান।

রোহতগি রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।

ভারতের ব্যাংক থেকে ঋণ খেলাপির অভিযোগ ওঠার পর দুই ভাই ২০১৭ সালে আলবেনিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তারা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সন্দেসারা ভাইরা ২০১৮ সালের এক আইনের আওতায় ১৪ জন ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’র তালিকায় রয়েছেন, যে আইন সম্পদ জব্দের অনুমতি দেয়।

তালিকায় আরও আছেন কিংফিশার এয়ারলাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় মালিয়া এবং হীরা ব্যবসায়ী নিরব মোদি। তারাও কোনও আর্থিক জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সন্দেসারাদের মালিকানাধীন নাইজেরিয়ার স্টার্লিং অয়েল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড এনার্জি প্রোডাকশন কোম্পানির দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দেশটির মোট ফেডারেল রাজস্বের আড়াই শতাংশ সরবরাহ করে।

ভারতের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা অভিযোগ করেছে, বলিউড তারকাদের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ পার্টি আয়োজনের জন্য পরিচিত এ দুই ভাই ব্যাংকগুলোর ১৬০ কোটি ডলার প্রতারণা করেছেন। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই রায় আর্থিক জালিয়াতদের জন্য সমঝোতার এক পথ খুলে দিতে পারে, যা ঋণদাতাদের পুরো পাওনা উদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দেবপ্রিয় মৌলিক।

তিনি বলেন,  এটি অনেক দেশে প্রচলিত সেই পদ্ধতির মতো, যেখানে বিচার এড়ানোর বিকল্প হিসেবে জরিমানা গ্রহণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ভারতের ঋণখেলাপি দুই ভাইয়ের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি আদালত

হালনাগাদ সময় : ০৩:০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

ঋণখেলাপিদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার এক বিরল পন্থা অবলম্বনের দ্বার উন্মোচন করেছে ভারতের আদালত। সাম্প্রতিক এক রায়ে দেখা যায়, ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত ধনকুবের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ নির্দিষ্ট পরিমাণ দেনা শোধের বিনিময়ে প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

আদালতের ওয়েবসাইটে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের আদেশে দেখা যায়, নীতিন ও চেতন সন্দেসারের আইনজীবী মুকুল রোহতগিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, দুই ভাই ৫৭ কোটি ডলার পরিশোধে রাজি হয়েছে এবং আদালত ১৭ ডিসেম্বরের পুরো বিষয়টি মীমাংসার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

রোহতগি আদালতকে বলেন, তার মক্কেলরা সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে সমঝোতায় রাজি হয়েছে এবং তাই তারা সব মামলা-প্রক্রিয়া বাতিলের অনুরোধ জানান।

রোহতগি রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।

ভারতের ব্যাংক থেকে ঋণ খেলাপির অভিযোগ ওঠার পর দুই ভাই ২০১৭ সালে আলবেনিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তারা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সন্দেসারা ভাইরা ২০১৮ সালের এক আইনের আওতায় ১৪ জন ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’র তালিকায় রয়েছেন, যে আইন সম্পদ জব্দের অনুমতি দেয়।

তালিকায় আরও আছেন কিংফিশার এয়ারলাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় মালিয়া এবং হীরা ব্যবসায়ী নিরব মোদি। তারাও কোনও আর্থিক জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সন্দেসারাদের মালিকানাধীন নাইজেরিয়ার স্টার্লিং অয়েল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড এনার্জি প্রোডাকশন কোম্পানির দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দেশটির মোট ফেডারেল রাজস্বের আড়াই শতাংশ সরবরাহ করে।

ভারতের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা অভিযোগ করেছে, বলিউড তারকাদের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ পার্টি আয়োজনের জন্য পরিচিত এ দুই ভাই ব্যাংকগুলোর ১৬০ কোটি ডলার প্রতারণা করেছেন। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই রায় আর্থিক জালিয়াতদের জন্য সমঝোতার এক পথ খুলে দিতে পারে, যা ঋণদাতাদের পুরো পাওনা উদ্ধারকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দেবপ্রিয় মৌলিক।

তিনি বলেন,  এটি অনেক দেশে প্রচলিত সেই পদ্ধতির মতো, যেখানে বিচার এড়ানোর বিকল্প হিসেবে জরিমানা গ্রহণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card