সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে একের পর এক ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ হাওরের সোনালি ফসল। শনিবার সকালে উপজেলার বোয়ালা হাওরের গুড়াডুবা উপপ্রকল্পের একটি বাঁধ ভেঙে নতুন করে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়া কষ্টের ফসল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সোমেশ্বরী নদীর পানির প্রবল চাপে মধ্যনগর মহিলা কওমি মাদ্রাসার পাশের একটি কালভার্ট সংলগ্ন বাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকতে শুরু করলে মাদ্রাসা ভবনটিও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও পানির তোড়ে তা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে আজ তাদের এই দুর্দশা। অনেকের ধান কাটার উপযোগী হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা হাজারো কৃষক এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় জড়িত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বোয়ালা হাওরের প্রায় ৬০০ হেক্টর জমির মধ্যে বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই পানির নিচে চলে গেছে। এর আগে জিনারিয়া ও কাইলানী উপপ্রকল্পের বাঁধ ভেঙেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















