ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সেন্টমার্টিন নিয়ে পূর্বের কঠোর সিদ্ধান্তই বহাল রাখছে নির্বাচিত সরকার

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং বিপন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্তই বহাল রাখার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, বছরের ৯ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার নীতি থেকে সরকার সরবে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ৯ মাস মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনচক্র প্রাকৃতিকভাবে পুনরুদ্ধার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের আলোচনা ও পরামর্শের পর ২০২৪ সালে এই পর্যটন নিয়ন্ত্রণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, দ্বীপের অস্তিত্ব রক্ষায় তার কোনো বিকল্প নেই বলে সরকার মনে করছে।

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, বছরের কেবল নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি—এই তিন মাস পর্যটকরা দ্বীপে যেতে পারবেন। তবে এই সময়েও অবাধ যাতায়াত নয়, বরং প্রতিদিন অনধিক দুই হাজার পর্যটককে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সতর্ক করে বলেন, যদি তিন মাসের অধিক সময় পর্যটন কার্যক্রম চালু রাখা হয়, তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপটির অস্তিত্বই অদূর ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পর্যটন উন্মুক্ত রাখার ফলে দ্বীপের ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটির যে ক্ষতি হচ্ছিল, দীর্ঘকালীন নিষেধাজ্ঞার কারণে তা বর্তমানে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দ্বীপের সুরক্ষায় এই ব্যবস্থা চালু রাখা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র গঠনে নেতৃত্বের সংকট ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

সেন্টমার্টিন নিয়ে পূর্বের কঠোর সিদ্ধান্তই বহাল রাখছে নির্বাচিত সরকার

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং বিপন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্তই বহাল রাখার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, বছরের ৯ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার নীতি থেকে সরকার সরবে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ৯ মাস মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনচক্র প্রাকৃতিকভাবে পুনরুদ্ধার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের আলোচনা ও পরামর্শের পর ২০২৪ সালে এই পর্যটন নিয়ন্ত্রণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, দ্বীপের অস্তিত্ব রক্ষায় তার কোনো বিকল্প নেই বলে সরকার মনে করছে।

বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, বছরের কেবল নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি—এই তিন মাস পর্যটকরা দ্বীপে যেতে পারবেন। তবে এই সময়েও অবাধ যাতায়াত নয়, বরং প্রতিদিন অনধিক দুই হাজার পর্যটককে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সতর্ক করে বলেন, যদি তিন মাসের অধিক সময় পর্যটন কার্যক্রম চালু রাখা হয়, তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপটির অস্তিত্বই অদূর ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পর্যটন উন্মুক্ত রাখার ফলে দ্বীপের ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটির যে ক্ষতি হচ্ছিল, দীর্ঘকালীন নিষেধাজ্ঞার কারণে তা বর্তমানে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপকে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় গর্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দ্বীপের সুরক্ষায় এই ব্যবস্থা চালু রাখা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা।