বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওয়াজেদ আলী খান পন্নী, যিনি চাঁদ মিয়া নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৮৭১ সালের ১ রমজান জন্মগ্রহণ করায় তাঁর দাদি তাঁর নাম রেখেছিলেন চাঁদ মিয়া। তিনি ছিলেন সুপণ্ডিত ও অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও কোরআনের হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নীর সুযোগ্য সন্তান।
গৃহশিক্ষকদের কাছে আরবি, ফারসি, উর্দু, বাংলা ও ইংরেজি—এ পাঁচটি ভাষায় তিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি ছিলেন বঙ্গভঙ্গের জন্য গঠিত মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়নের সহসভাপতি, লর্ড কার্জনের বিদায় সম্ভাষণ সভার সভাপতি এবং প্রভিন্সিয়াল মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি। তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তির মধ্যে রয়েছে করটিয়া হাই স্কুল, রোকেয়া মাদরাসা এবং সা’দত কলেজ প্রতিষ্ঠা। তিনি যে ওয়াক্ফ দলিল করেন, তাতে শিক্ষা ও সংস্কারের জন্য তাঁর বার্ষিক দানের পরিমাণ বর্তমানের হিসেবে প্রায় এক কোটি টাকার সমান।
কবি গোলাম মোস্তফা তাঁকে ‘বাংলার দ্বিতীয় মুহসীন’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ জেলখানায় তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, ‘এই লোহার কপাটটি সামনে না থাকলে আজ তার পায়ের ধুলা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরতাম।’ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান তাঁকে ‘বিরল’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘তিনি সর্বভারতীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন।’ সওগাত সম্পাদক নাসিরউদ্দীন বলেন, ‘তিনি নিজেকে রিক্ত করিয়া তাহার সর্বস্ব জনহিতকর কাজে ব্যয় করিয়াছেন।’ ঐতিহাসিক ড. আবদুল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সম্ভবত একমাত্র জমিদার যার ভাগ্যে জুটেছিল দীর্ঘদিনের কারাবরণ।’ লন্ডন মিউজিয়ামে তাঁর তেলচিত্রের নিচে লেখা আছে, ‘One who defied the British.’ মওলানা ভাসানী মন্তব্য করেছিলেন, ‘জমিদাররা যদি সবাই চাঁদ মিয়ার মতো হতো, তবে কখনোই জমিদারবিরোধী আন্দোলন করতাম না।’
বাংলা, বিহার, আসাম ও উড়িষ্যার শাসনকর্তা দাউদ খান এবং সোলায়মান খান কররানীর সুযোগ্য বংশধর করটিয়ার পন্নী পরিবার। ৪১৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আতিয়া মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ খান পন্নীর সুযোগ্য উত্তরসূরি হলেন সা’দত আলী খান পন্নী, যিনি ছিলেন হাফিয মাহমুদ আলী খান পন্নীর পিতা। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ১৪২ বছর আগে ১৮৮৪ সালে করটিয়ায় বৃহত্তর মোমেনশাহীর প্রথম মাসিক পত্রিকা ‘আখবারে ইসলামিয়া’ প্রকাশিত হতো নিজস্ব প্রেস করটিয়ার মাহমুদিয়া প্রেস থেকে এবং তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিত।
রিপোর্টারের নাম 






















