বল হাতে পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্ত অবস্থানের জবাবে কিছুটা কোনঠাসা স্বাগতিকেরা। হাসান মাহমুদের পাঁচ উইকেটের রিলিজের পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ব্যাকফুটে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে তোলা ৩৫৬ রানের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দিনের শেষভাগে তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়েছে। হৃদয় ২৯ ও মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
ওপেনার সাদমান ইসলামের ইনজুরির কারণে ইনিংসের শুরুতে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে সুযোগ পান অফ স্পিনার নাঈম হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে আগে কখনো আট নম্বরের ওপরে ব্যাট না করা নাঈম এই নতুন ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। চা বিরতির ঠিক আগে জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজঘরে ফেরেন।
অন্য প্রান্তের ওপেনার তানজিদ তামিম ১৬ রান করে কেভিন উইকহ্যামের ক্যাচে পরিণত হন। এরপর দলীয় বিপর্যয় সামাল দিতে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫১ বলে ১৪ রান করে শামার জোসেফের ভেতরে ঢোকা চমৎকার এক বলে বোল্ড হন। মাত্র ৫১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে দিনের শুরুর চিত্রটি ছিল হাসানের নৈপুণ্যে ভাস্বর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে খেলা শুরুর পর সকালে সফরকারীদের চেপে ধরেন এই ডানহাতি পেসার। সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গো (১৩৩) ও রস্টন চেইসকে টানা দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান।
পরবর্তীতে জশুয়া বিশপকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের নিখুঁত স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে বিদায় করে টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম কোনো বাংলাদেশী পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট নেওয়ার এক বিরল রেকর্ডও গড়েন তিনি।

























