মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:০৬ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সাত কার্যদিবস পর শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি, লেনদেন সর্বনিম্ন

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

টানা সাত কার্যদিবস দরপতনের পর মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রধান মূল্যসূচক কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে সিএসইতে টানা আট কার্যদিবস মূল্যসূচক কমে গেল। তবে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে, যার ফলে শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতা দেখা যায়। কিন্তু লেনদেনের এক ঘণ্টার মাথায় দাম কমার তালিকায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার ঘুরে দাঁড়ায় এবং দিনের লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকে। ফলস্বরূপ, মূল্যসূচক বৃদ্ধি নিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৪টির। আর ৬২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮২টির দাম কমেছে এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৯টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৩টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে একটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৭ পয়েন্টে এবং বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্য দিয়ে গত ২৩ জুনের পর ডিএসইতে এটি সর্বনিম্ন লেনদেন।

এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার, যার ২০ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৪ লাখ টাকার। ১৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রানার অটোমোবাইল, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, মনোস্পুল পেপার এবং শাহজিবাজার পাওয়ার।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪ পয়েন্ট। এই বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৮টির এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সাত কার্যদিবস পর শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি, লেনদেন সর্বনিম্ন

হালনাগাদ সময় : ০৪:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

টানা সাত কার্যদিবস দরপতনের পর মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রধান মূল্যসূচক কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে সিএসইতে টানা আট কার্যদিবস মূল্যসূচক কমে গেল। তবে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে, যার ফলে শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতা দেখা যায়। কিন্তু লেনদেনের এক ঘণ্টার মাথায় দাম কমার তালিকায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার ঘুরে দাঁড়ায় এবং দিনের লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকে। ফলস্বরূপ, মূল্যসূচক বৃদ্ধি নিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৪টির। আর ৬২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮২টির দাম কমেছে এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৯টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৩টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে একটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৭ পয়েন্টে এবং বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্য দিয়ে গত ২৩ জুনের পর ডিএসইতে এটি সর্বনিম্ন লেনদেন।

এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার, যার ২০ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৪ লাখ টাকার। ১৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রানার অটোমোবাইল, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, মনোস্পুল পেপার এবং শাহজিবাজার পাওয়ার।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪ পয়েন্ট। এই বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৮টির এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

Share this news as a Photo Card