মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:৫২ অপরাহ্ন | ৬ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ২১শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে কিংবদন্তি এন্ড্রু কিশোরের জন্মজয়ন্তী

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৩৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কিছু কণ্ঠ সময়ের সীমানা পেরিয়ে অমরত্ব লাভ করে। গানের সুর মিলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে তার রেশ রয়ে যায় চিরকাল। বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতে তেমনই এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র এন্ড্রু কিশোর। আজ এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর জন্মজয়ন্তী।

‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবে খ্যাত এন্ড্রু কিশোর তাঁর কয়েক দশকের সুরযাত্রায় উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। তাঁর অনন্য গায়কী, আবেগঘন উপস্থাপন ও শক্তিশালী কণ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্রের গানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রেকর্ড আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

দীর্ঘ ১০ মাস মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই মহান শিল্পী। জীবিতকালে জন্মদিনের জাঁকজমক উদযাপন পছন্দ করতেন না তিনি; পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতেন। প্রয়াণের পর প্রতিবছর তাঁর জন্মদিনে স্বজনেরা তাঁকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। এ উপলক্ষে রাজশাহীতে তাঁর সমাধিতে দিনটিতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া এন্ড্রু কিশোরের শৈশব ও বেড়ে ওঠা পদ্মাপাড়ের ঐতিহাসিক এই শহরেই। তাঁর বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মা মিনু বাড়ৈ ছিলেন পেশায় শিক্ষক। মূলত মায়ের কাছেই তাঁর সংগীতপ্রীতির সূচনা। ভারতের খ্যাতনামা শিল্পী কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন তাঁর মা, আর তাই প্রিয় শিল্পীর অনুকরণে ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘কিশোর’।

ওস্তাদ আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছে সংগীতে প্রাথমিক তালিম নেন এন্ড্রু কিশোর। স্বাধীনতার পর নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক ও লোকসংগীতের শিল্পী হিসেবে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ ছবির ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

১৯৮২ সালে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। এরপর ‘নয়নের আলো’ ছবির ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’ ও ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’র মতো গানগুলো শ্রোতামনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ কিংবা ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’—তাঁর গাওয়া গানগুলো আজ বাংলা সংস্কৃতি ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

চেন্নাইয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে ফের একসঙ্গে বিজয় ও তৃষা, ভিডিও ভাইরাল

06 November 2026

রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে কিংবদন্তি এন্ড্রু কিশোরের জন্মজয়ন্তী

হালনাগাদ সময় : ১১:৩৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

কিছু কণ্ঠ সময়ের সীমানা পেরিয়ে অমরত্ব লাভ করে। গানের সুর মিলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে তার রেশ রয়ে যায় চিরকাল। বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতে তেমনই এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র এন্ড্রু কিশোর। আজ এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীর জন্মজয়ন্তী।

‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবে খ্যাত এন্ড্রু কিশোর তাঁর কয়েক দশকের সুরযাত্রায় উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। তাঁর অনন্য গায়কী, আবেগঘন উপস্থাপন ও শক্তিশালী কণ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্রের গানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রেকর্ড আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

দীর্ঘ ১০ মাস মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০২০ সালের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই মহান শিল্পী। জীবিতকালে জন্মদিনের জাঁকজমক উদযাপন পছন্দ করতেন না তিনি; পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতেন। প্রয়াণের পর প্রতিবছর তাঁর জন্মদিনে স্বজনেরা তাঁকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। এ উপলক্ষে রাজশাহীতে তাঁর সমাধিতে দিনটিতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া এন্ড্রু কিশোরের শৈশব ও বেড়ে ওঠা পদ্মাপাড়ের ঐতিহাসিক এই শহরেই। তাঁর বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মা মিনু বাড়ৈ ছিলেন পেশায় শিক্ষক। মূলত মায়ের কাছেই তাঁর সংগীতপ্রীতির সূচনা। ভারতের খ্যাতনামা শিল্পী কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন তাঁর মা, আর তাই প্রিয় শিল্পীর অনুকরণে ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘কিশোর’।

ওস্তাদ আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছে সংগীতে প্রাথমিক তালিম নেন এন্ড্রু কিশোর। স্বাধীনতার পর নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক ও লোকসংগীতের শিল্পী হিসেবে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ ছবির ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

১৯৮২ সালে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। এরপর ‘নয়নের আলো’ ছবির ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’ ও ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’র মতো গানগুলো শ্রোতামনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ কিংবা ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’—তাঁর গাওয়া গানগুলো আজ বাংলা সংস্কৃতি ও আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Share this news as a Photo Card