মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:৪৮ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর: বন্ধ কারখানা চালুতে নীতিগত সহায়তার ঘোষণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের ঝিমিয়ে পড়া শিল্প খাতকে চাঙ্গা করতে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই এই অগ্রাধিকারের কথা জানান।

বুধবার বেলা ২টায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এর আগে সকালে গভর্নর হিসেবে যোগদান করে ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন মোস্তাকুর রহমান। মূলত ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমকে জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় গভর্নর শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো দ্রুত সচল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে গত দেড় বছরে যেসব কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, বিশেষ প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সভায় গভর্নর দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে জানান, সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করেই দেশের অর্থনীতিতে পূর্ণ গতি ফিরিয়ে আনা হবে।

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচিত বর্তমান উচ্চ সুদের হার পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সুদের হার কমিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক ও বৈষম্যহীন। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং কাজের গতি বাড়াতে ‘ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ’ বা ডেলিগেশন অব অথরিটির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে আসবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর: বন্ধ কারখানা চালুতে নীতিগত সহায়তার ঘোষণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

হালনাগাদ সময় : ০৩:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ঝিমিয়ে পড়া শিল্প খাতকে চাঙ্গা করতে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই এই অগ্রাধিকারের কথা জানান।

বুধবার বেলা ২টায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এর আগে সকালে গভর্নর হিসেবে যোগদান করে ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন মোস্তাকুর রহমান। মূলত ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমকে জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় গভর্নর শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো দ্রুত সচল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে গত দেড় বছরে যেসব কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, বিশেষ প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সভায় গভর্নর দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে জানান, সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করেই দেশের অর্থনীতিতে পূর্ণ গতি ফিরিয়ে আনা হবে।

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচিত বর্তমান উচ্চ সুদের হার পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সুদের হার কমিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক ও বৈষম্যহীন। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং কাজের গতি বাড়াতে ‘ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ’ বা ডেলিগেশন অব অথরিটির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে আসবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card