মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৪৩ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

রাজনৈতিক পালাবদলের দিনে অর্থনীতির সুবাতাস: রিজার্ভ ছাড়াল ৩৪.৫ বিলিয়ন ডলার

  • হালনাগাদ সময় : ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দিনে অর্থনীতির সূচকেও মিলেছে বড় ধরনের সুখবর। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তি এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ঐতিহাসিক ক্ষণেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের এই দিনে রিজার্ভের এই অবস্থানকে নতুন সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক সূচনা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পাওয়াই রিজার্ভের এই শক্তিশালী উত্থানের প্রধান কারণ।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩১৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এই ধারা ফেব্রুয়ারিতেও অব্যাহত রয়েছে; মাসের প্রথম ১৬ দিনেই দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ডলারের দামের বড় ধরনের পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) এ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৪৯০ কোটি মার্কিন ডলার (৪.৯০ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা সরাসরি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডলার সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে ১২২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল এবং সেই সংকট কাটাতে তিন অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করতে হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ এবং হুন্ডি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থার ফলে বৈধ চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত থাকা এবং রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকাও অর্থনীতির এই ঘুরে দাঁড়ানোতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিনে রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ঋণমান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানের এই রিজার্ভ দিয়ে অনায়াসেই পরবর্তী কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং প্রবাসী আয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে রিজার্ভের পরিমাণ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

রাজনৈতিক পালাবদলের দিনে অর্থনীতির সুবাতাস: রিজার্ভ ছাড়াল ৩৪.৫ বিলিয়ন ডলার

হালনাগাদ সময় : ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দিনে অর্থনীতির সূচকেও মিলেছে বড় ধরনের সুখবর। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তি এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ঐতিহাসিক ক্ষণেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের এই দিনে রিজার্ভের এই অবস্থানকে নতুন সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক সূচনা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পাওয়াই রিজার্ভের এই শক্তিশালী উত্থানের প্রধান কারণ।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩১৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এই ধারা ফেব্রুয়ারিতেও অব্যাহত রয়েছে; মাসের প্রথম ১৬ দিনেই দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ডলারের দামের বড় ধরনের পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) এ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৪৯০ কোটি মার্কিন ডলার (৪.৯০ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা সরাসরি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডলার সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে ১২২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল এবং সেই সংকট কাটাতে তিন অর্থবছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করতে হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ এবং হুন্ডি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থার ফলে বৈধ চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত থাকা এবং রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকাও অর্থনীতির এই ঘুরে দাঁড়ানোতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিনে রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ঋণমান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানের এই রিজার্ভ দিয়ে অনায়াসেই পরবর্তী কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং প্রবাসী আয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে রিজার্ভের পরিমাণ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card