পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড় বিষয়। এটাই মহাসাফল্য।’ (সূরা তাওবা: ৭২)। এই আয়াতের আলোকে দুনিয়ার মানুষ নানাভাবে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে থাকেন, কারণ দুনিয়া ও আখেরাতের প্রকৃত সফলতা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপরই নির্ভরশীল। কোরআন ও হাদিসের আলোকে এমন কিছু আমলের কথা নিচে তুলে ধরা হলো, যা মহান আল্লাহকে অধিক খুশি করে।
আন্তরিক তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা: মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে পাপ ও ত্রুটির শিকার হয়। কিন্তু আল্লাহর কাছে প্রিয় বান্দা সে নয়, যে কখনো ভুল করে না; বরং সে-ই, যে ভুল করার পর নিজের অপরাধ উপলব্ধি করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। পাপের পর তওবা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আল বাকারা: ২২২)।
ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায়: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো তার ফরজ বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা। অনেক মানুষ নফল ইবাদতে আগ্রহী হলেও ফরজ ইবাদতের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। অথচ ফরজ আমলের বিকল্প কোনো নফল আমল হতে পারে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দা যেসব কাজের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করে, তার মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো সেই কাজগুলো, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি।’ (সহিহ বোখারি: ৬৫০২)।
আল্লাহর পথে ব্যয় ও অসহায়দের সহযোগিতা করা: সম্পদ মানুষের জীবনে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। এই সম্পদ শুধু নিজের ভোগবিলাসে ব্যয় করার জন্য নয়, বরং অসহায়, দরিদ্র, এতিম ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় সম্পদ থেকে অন্যকে সাহায্য করে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)।


























