মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৩:০৮ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে: বিনিয়োগে অনীহা

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:২৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এই খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.১০ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও নিচে। এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এর পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে (ডিসেম্বর) ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৭১ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে ১.১৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

খাতসংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা বর্তমানে অনাগ্রহী। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রত্যাশায় তারা বড় ধরনের বিনিয়োগ ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ব্যবসায়ীদের অভিমত, দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেই বিনিয়োগের আস্থা ফিরবে এবং ঋণের চাহিদা বাড়বে।

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের (জুলাই-ডিসেম্বর সময়কাল) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৭.২ শতাংশ। তবে, সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কম হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকার গতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কম্পিউটার হঠাৎ হ্যাং হলে পাওয়ার বাটন নয়: জেনে নিন নিরাপদ রিস্টার্টের সহজ উপায়

29 October 2026

মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে: বিনিয়োগে অনীহা

হালনাগাদ সময় : ০৭:২৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এই খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.১০ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও নিচে। এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এর পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে (ডিসেম্বর) ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৭১ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে ১.১৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

খাতসংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা বর্তমানে অনাগ্রহী। বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রত্যাশায় তারা বড় ধরনের বিনিয়োগ ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ব্যবসায়ীদের অভিমত, দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেই বিনিয়োগের আস্থা ফিরবে এবং ঋণের চাহিদা বাড়বে।

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের (জুলাই-ডিসেম্বর সময়কাল) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৭.২ শতাংশ। তবে, সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কম হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকার গতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

Share this news as a Photo Card