একই দেশের মানচিত্রের ভেতরে উন্নয়নের বৈপরীত্য অত্যন্ত স্পষ্ট। কোথাও রয়েছে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নত চিকিৎসার দীর্ঘ সারি, আবার কোথাও সামান্য চিকিৎসাসেবার জন্যও মানুষকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ। শিশুর মেধা ও স্বপ্ন সমান হলেও সামাজিক পারিপার্শ্বিকতার কারণে প্রত্যেকের জীবনযাত্রার সুযোগ এক বিন্দুতে মেলে না।
বিশ্বায়ন মানুষের জীবনযাত্রাকে অভাবনীয় গতিতে বদলে দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে জ্ঞান এখন সীমানা ছাড়িয়ে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। তবে সুযোগের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও সেই দরজায় পৌঁছানোর সামর্থ্য সবার সমান থাকে না। জন্মসূত্রে কেউ হয়তো উন্নত শিক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তা পান, আবার কাউকে প্রতিনিয়ত জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগোতে হয়।
শিক্ষার ক্ষেত্রে এই বৈষম্য সবচেয়ে প্রকট রূপ নেয়। শহরের নামী প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়ানোর জন্য অভিভাবকরা শহরমুখী হন, যা গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। একইভাবে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও উন্নত সুযোগ-সুবিধাগুলো শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ জনপদের মানুষদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উন্নয়নকে শুধু নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত না করে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব।


























