মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:০৪ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে ২১ লাখ নতুন দরিদ্র, অর্থনীতির গতি শ্লথ

  • হালনাগাদ সময় : ০৬:১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতির ধীরগতির প্রভাবে বাংলাদেশে মানুষের আয় ও জীবিকায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত স্থবির হয়ে আছে এবং নারীদের কর্মসংস্থানও কমেছে, যা মানুষের জীবনযাত্রার মানকে আরও নিম্নমুখী করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে থাকতে পারে, যা প্রত্যাশিত হারের চেয়ে অনেক কম। বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি—এই সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমেই নিম্নমুখী। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা একসঙ্গে যুক্ত হয়ে বিনিয়োগ ও সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ধীরগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের আয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির দুর্বলতাই দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় এবং নারীদের চাকরি হারানোর প্রবণতা বাড়ায় নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয় হারানোর ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে আসতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং নতুন ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এসব সংস্কার অত্যাবশ্যক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে নতুন করে দারিদ্র্যে পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

28 October 2026

মিরপুর টেস্ট: মুমিনুলের বিদায়ে আক্ষেপ নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে ২১ লাখ নতুন দরিদ্র, অর্থনীতির গতি শ্লথ

হালনাগাদ সময় : ০৬:১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতির ধীরগতির প্রভাবে বাংলাদেশে মানুষের আয় ও জীবিকায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত স্থবির হয়ে আছে এবং নারীদের কর্মসংস্থানও কমেছে, যা মানুষের জীবনযাত্রার মানকে আরও নিম্নমুখী করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে থাকতে পারে, যা প্রত্যাশিত হারের চেয়ে অনেক কম। বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি—এই সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমেই নিম্নমুখী। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা একসঙ্গে যুক্ত হয়ে বিনিয়োগ ও সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ধীরগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের আয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির দুর্বলতাই দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় এবং নারীদের চাকরি হারানোর প্রবণতা বাড়ায় নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয় হারানোর ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে আসতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং নতুন ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এসব সংস্কার অত্যাবশ্যক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে নতুন করে দারিদ্র্যে পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে।

Share this news as a Photo Card