মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:৪৪ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বাজার ও মূল্যস্ফীতি: নতুন সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:০৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজার পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। গত বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই নতুন সরকারপ্রধান আগামী তিন মাসের মধ্যে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং পবিত্র রমজান মাস ঘিরে বাড়তি চাহিদা—সব মিলিয়ে বাজার এখনও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন রমজানে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানো এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।

বাজারের বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৮.৪৯ শতাংশ। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এক লাফে বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ হয়েছে। নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর এই চাপ এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনির পাশাপাশি রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন—ছোলা, বেগুন ও শসার দামও বাজারে বেশ চড়া।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাজার স্থিতিশীল করতে উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যদিকে, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “প্রথম তিন মাসই হবে নতুন সরকারের দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকৃত পরীক্ষা। যদি বাজারে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা যায়, তবেই জনগণের আস্থা বাড়বে।”

ব্যবসায়ীদের অবস্থান: ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এবার সরবরাহ পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় ভালো। ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকায় আমদানিতে সুবিধা হয়েছে এবং এলসি মার্জিন কমানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। তা সত্ত্বেও বাজারে দাম না কমার পেছনে অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ভোক্তারা।

সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং নীতি সুদহার বৃদ্ধির পরও প্রত্যাশিত ফল মেলেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, সরকারের নেওয়া ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বাজার ও মূল্যস্ফীতি: নতুন সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা

হালনাগাদ সময় : ০৩:০৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজার পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। গত বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই নতুন সরকারপ্রধান আগামী তিন মাসের মধ্যে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং পবিত্র রমজান মাস ঘিরে বাড়তি চাহিদা—সব মিলিয়ে বাজার এখনও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন রমজানে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানো এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।

বাজারের বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৮.৪৯ শতাংশ। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এক লাফে বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ হয়েছে। নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর এই চাপ এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনির পাশাপাশি রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন—ছোলা, বেগুন ও শসার দামও বাজারে বেশ চড়া।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাজার স্থিতিশীল করতে উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যদিকে, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “প্রথম তিন মাসই হবে নতুন সরকারের দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকৃত পরীক্ষা। যদি বাজারে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা যায়, তবেই জনগণের আস্থা বাড়বে।”

ব্যবসায়ীদের অবস্থান: ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এবার সরবরাহ পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় ভালো। ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকায় আমদানিতে সুবিধা হয়েছে এবং এলসি মার্জিন কমানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। তা সত্ত্বেও বাজারে দাম না কমার পেছনে অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ভোক্তারা।

সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং নীতি সুদহার বৃদ্ধির পরও প্রত্যাশিত ফল মেলেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, সরকারের নেওয়া ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।

Share this news as a Photo Card