মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:৪৬ অপরাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পর্যটন মৌসুমে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে চরম যাত্রী ভোগান্তি

  • হালনাগাদ সময় : ০১:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভ্রমণপিপাসুদের একটি বড় অংশ নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রেনকে বেছে নিলেও, ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনের তীব্র সংকটে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিপুল চাহিদা সত্ত্বেও এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাওয়ায় টিকিট যেন বর্তমানে ‘সোনার হরিণ’-এ পরিণত হয়েছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পথে অভূতপূর্ব যাত্রী চাহিদা তৈরি হয়েছে। অথচ, বর্তমানে এই রুটে মাত্র দুটি আন্তঃনগর ট্রেন, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’, চলাচল করছে। দীর্ঘ পথের যাত্রীদের জন্য এই দুটি ট্রেনই একমাত্র ভরসা, যা বিপুল সংখ্যক পর্যটকের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

রেলপথটি চালুর সময় রেল মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে অচিরেই এই রুটে আরও নতুন ট্রেন যুক্ত করা হবে। শুধু তাই নয়, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট থেকেও কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চালু করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যে দুটি লোকাল ট্রেন চালু আছে, তা-ও স্থানীয়দের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।

অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্মের চিত্র আরও ভয়াবহ। টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ১০ দিন আগে টিকিট কাটার সুযোগ থাকলেও তা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ টিকিট মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ।

যাত্রী তৌহিদ জানান, তিনি চলতি মাসেই গ্রুপ ট্যুরের জন্য টিকিট কাটতে গিয়ে দেখেন, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেসের’ টিকিট প্রায় প্রতিদিনই এক মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’-এর ক্ষেত্রেও টিকিট সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া যায়।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও প্রশ্নচিহ্ন

পর্যটকদের এই মারাত্মক টিকিট সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীরা মনে করছেন, এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারতেন। এতে রেলওয়ের মোটা অংকের আয়ের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হতো এবং পর্যটকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেত।

যাত্রী চাহিদা পূরণে রেল কর্তৃপক্ষের এই দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা আসন্ন পর্যটন মৌসুমে পর্যটন শিল্প এবং রেলওয়ের রাজস্ব আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

26 October 2026

সরকারের সবুজ সংকেত পেলে মাদকমুক্তিতে 'ক্রসফায়ারেও' পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

পর্যটন মৌসুমে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে চরম যাত্রী ভোগান্তি

হালনাগাদ সময় : ০১:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভ্রমণপিপাসুদের একটি বড় অংশ নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রেনকে বেছে নিলেও, ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনের তীব্র সংকটে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিপুল চাহিদা সত্ত্বেও এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাওয়ায় টিকিট যেন বর্তমানে ‘সোনার হরিণ’-এ পরিণত হয়েছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পথে অভূতপূর্ব যাত্রী চাহিদা তৈরি হয়েছে। অথচ, বর্তমানে এই রুটে মাত্র দুটি আন্তঃনগর ট্রেন, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’, চলাচল করছে। দীর্ঘ পথের যাত্রীদের জন্য এই দুটি ট্রেনই একমাত্র ভরসা, যা বিপুল সংখ্যক পর্যটকের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

রেলপথটি চালুর সময় রেল মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে অচিরেই এই রুটে আরও নতুন ট্রেন যুক্ত করা হবে। শুধু তাই নয়, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট থেকেও কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চালু করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যে দুটি লোকাল ট্রেন চালু আছে, তা-ও স্থানীয়দের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।

অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্মের চিত্র আরও ভয়াবহ। টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ১০ দিন আগে টিকিট কাটার সুযোগ থাকলেও তা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ টিকিট মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ।

যাত্রী তৌহিদ জানান, তিনি চলতি মাসেই গ্রুপ ট্যুরের জন্য টিকিট কাটতে গিয়ে দেখেন, ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেসের’ টিকিট প্রায় প্রতিদিনই এক মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’-এর ক্ষেত্রেও টিকিট সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া যায়।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও প্রশ্নচিহ্ন

পর্যটকদের এই মারাত্মক টিকিট সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীরা মনে করছেন, এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারতেন। এতে রেলওয়ের মোটা অংকের আয়ের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হতো এবং পর্যটকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেত।

যাত্রী চাহিদা পূরণে রেল কর্তৃপক্ষের এই দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা আসন্ন পর্যটন মৌসুমে পর্যটন শিল্প এবং রেলওয়ের রাজস্ব আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Share this news as a Photo Card