মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:০৬ অপরাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া: উপেক্ষিত প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

শাল-গজারির মনোমুগ্ধকর বন, বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, দেশের বৃহত্তম বদ্ধ জলাশয় ‘বড়বিলা’ এবং কিংবদন্তীর আনই রাজার স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। ৩৯৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জনপদটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে ভরপুর হলেও, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারছে না। অথচ এই খাত থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বদ্ধ জলাশয় ‘বড়বিলা’। এখানকার প্রধান আকর্ষণ শুধু পদ্ম, শাপলা আর শালুকই নয়, বরং বিলের মাঝে অবস্থিত রহস্যময় ‘নবাইকুরি’ও পর্যটকদের বিশেষভাবে টানে। প্রায় ৩০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই স্থানটি শীতকালে দেশি-বিদেশি অতিথি পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে বিলের বুকে নৌকাভ্রমণে আসেন।

বড়বিলার পাশেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আনই রাজার ভিটা। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বহু বছর আগে এখানে আনই রাজার এক সুরক্ষিত রাজপ্রাসাদ ছিল। কিন্তু প্রতি বছরই এটি প্রবল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, রাজা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে চারদিকে বিশাল খাল খনন করে একটি লোহার প্রাসাদ নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক প্রলয়ংকরী ঝড়ের রাতে মায়ের আর্তনাদ শুনে প্রাসাদের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে পুরো লোহার প্রাসাদটি ঝড়ের বেগে উড়ে গিয়ে পাশের খালে নিমজ্জিত হয়। এই রোমাঞ্চকর লোকগাথা আজও পর্যটকদের কৌতূহল জাগিয়ে তোলে।

উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে সন্তোষপুর বনাঞ্চলে রয়েছে নয়নাভিরাম সবুজ প্রকৃতি, শাল-গজারি গাছ এবং বন্যপ্রাণী ও পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। এখানে রয়েছে সুবিশাল রাবার বাগান, যেখানে গাছ থেকে কষ আহরণের দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বেশ উপভোগ্য। তবে এখানকার মূল আকর্ষণ প্রায় পাঁচ শতাধিক বন্য বানর, যাদের দর্শনার্থীরা ‘সামাজিক বানর’ নামে ডেকে থাকেন। এরা মানুষের ভয় পায় না, বরং পর্যটকদের কাঁধে বা মাথায় চড়ে খাবার খায়, যা ছোট শিশুদের জন্য এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

এছাড়াও, উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের দুলমা গ্রামে রয়েছে দেশের বৃহৎ…

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, একজনের মরদেহ উদ্ধার

26 October 2026

সাতক্ষীরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া: উপেক্ষিত প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ

হালনাগাদ সময় : ০৪:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

শাল-গজারির মনোমুগ্ধকর বন, বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, দেশের বৃহত্তম বদ্ধ জলাশয় ‘বড়বিলা’ এবং কিংবদন্তীর আনই রাজার স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। ৩৯৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জনপদটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে ভরপুর হলেও, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারছে না। অথচ এই খাত থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বদ্ধ জলাশয় ‘বড়বিলা’। এখানকার প্রধান আকর্ষণ শুধু পদ্ম, শাপলা আর শালুকই নয়, বরং বিলের মাঝে অবস্থিত রহস্যময় ‘নবাইকুরি’ও পর্যটকদের বিশেষভাবে টানে। প্রায় ৩০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই স্থানটি শীতকালে দেশি-বিদেশি অতিথি পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে বিলের বুকে নৌকাভ্রমণে আসেন।

বড়বিলার পাশেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আনই রাজার ভিটা। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বহু বছর আগে এখানে আনই রাজার এক সুরক্ষিত রাজপ্রাসাদ ছিল। কিন্তু প্রতি বছরই এটি প্রবল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, রাজা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে চারদিকে বিশাল খাল খনন করে একটি লোহার প্রাসাদ নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক প্রলয়ংকরী ঝড়ের রাতে মায়ের আর্তনাদ শুনে প্রাসাদের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে পুরো লোহার প্রাসাদটি ঝড়ের বেগে উড়ে গিয়ে পাশের খালে নিমজ্জিত হয়। এই রোমাঞ্চকর লোকগাথা আজও পর্যটকদের কৌতূহল জাগিয়ে তোলে।

উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে সন্তোষপুর বনাঞ্চলে রয়েছে নয়নাভিরাম সবুজ প্রকৃতি, শাল-গজারি গাছ এবং বন্যপ্রাণী ও পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। এখানে রয়েছে সুবিশাল রাবার বাগান, যেখানে গাছ থেকে কষ আহরণের দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বেশ উপভোগ্য। তবে এখানকার মূল আকর্ষণ প্রায় পাঁচ শতাধিক বন্য বানর, যাদের দর্শনার্থীরা ‘সামাজিক বানর’ নামে ডেকে থাকেন। এরা মানুষের ভয় পায় না, বরং পর্যটকদের কাঁধে বা মাথায় চড়ে খাবার খায়, যা ছোট শিশুদের জন্য এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

এছাড়াও, উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের দুলমা গ্রামে রয়েছে দেশের বৃহৎ…

Share this news as a Photo Card