মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৩২ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচিত সরকার না এলে অর্থছাড় নয়: আইএমএফ

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড় করার কথা ছিল। কিন্তু সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অর্থ ছাড় করতে রাজি নয়।

আইএমএফ বলছে, নতুন সরকার গঠনের পর তাদের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেই ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে। ষষ্ঠ কিস্তিতে বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের কিছু বেশি অর্থ পেতে পারে।

এদিকে, ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির শর্তগুলো পর্যালোচনা করতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আইএমএফ-এর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসছে। তারা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে এবং ফিরে গিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এই সফরের ওপর ভিত্তি করেই কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২১৪ কোটি ডলার। রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক গতি রয়েছে এবং আমদানি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রিত। চলতি হিসাবেও কোনো ঘাটতি নেই।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে আইএমএফ-এর প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ওই বৈঠকেই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, চলতি ডিসেম্বরেই ঋণের কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচনপূর্ব সময়ে আইএমএফ তা দিতে রাজি নয়। তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ পরিস্থিতি ভালো, ডলারও স্থিতিশীল। আইএমএফ-এর নীতিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাদের অর্থ ছাড়াও দেশ চলবে।

গভর্নরের এমন বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইএমএফ এখন তাদের শর্ত বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তারা সম্ভবত নতুন সরকার আসার পর তাদের কাছ থেকে ধারাবাহিকতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তবেই অর্থ ছাড় করবে।

এর আগে, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেও আইএমএফ অর্থ ছাড় করতে রাজি ছিল না। এমনকি ২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপের মুখে ঋণের শর্ত হিসেবে তারা জ্বালানি ও মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে সরকারে ওপর তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। যার ফলস্বরূপ মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয় এবং বাজারে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের সময় বিগত সরকার আইএমএফ-এর কাছে সহায়তা চেয়েছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে, যা পরে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ইতোমধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬০ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

নির্বাচিত সরকার না এলে অর্থছাড় নয়: আইএমএফ

হালনাগাদ সময় : ০৩:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি ছাড় করার কথা ছিল। কিন্তু সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অর্থ ছাড় করতে রাজি নয়।

আইএমএফ বলছে, নতুন সরকার গঠনের পর তাদের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেই ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে। ষষ্ঠ কিস্তিতে বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের কিছু বেশি অর্থ পেতে পারে।

এদিকে, ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির শর্তগুলো পর্যালোচনা করতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আইএমএফ-এর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসছে। তারা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে এবং ফিরে গিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এই সফরের ওপর ভিত্তি করেই কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২১৪ কোটি ডলার। রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক গতি রয়েছে এবং আমদানি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রিত। চলতি হিসাবেও কোনো ঘাটতি নেই।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে আইএমএফ-এর প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ওই বৈঠকেই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, চলতি ডিসেম্বরেই ঋণের কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচনপূর্ব সময়ে আইএমএফ তা দিতে রাজি নয়। তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ পরিস্থিতি ভালো, ডলারও স্থিতিশীল। আইএমএফ-এর নীতিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাদের অর্থ ছাড়াও দেশ চলবে।

গভর্নরের এমন বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইএমএফ এখন তাদের শর্ত বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তারা সম্ভবত নতুন সরকার আসার পর তাদের কাছ থেকে ধারাবাহিকতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তবেই অর্থ ছাড় করবে।

এর আগে, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেও আইএমএফ অর্থ ছাড় করতে রাজি ছিল না। এমনকি ২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপের মুখে ঋণের শর্ত হিসেবে তারা জ্বালানি ও মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে সরকারে ওপর তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। যার ফলস্বরূপ মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয় এবং বাজারে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের সময় বিগত সরকার আইএমএফ-এর কাছে সহায়তা চেয়েছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে, যা পরে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ইতোমধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬০ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

Share this news as a Photo Card