মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:২৩ অপরাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নারীদের কেন গরম বেশি লাগে? হরমোনের ওঠানামা ও শারীরিক প্রতিক্রিয়াই মূল কারণ

  • হালনাগাদ সময় : ১১:০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বৃষ্টির পরেও তীব্র গরমের মধ্যে অনেক নারীই অতিরিক্ত হাঁসফাঁস লাগা, খিটখিটে মেজাজ, মাথা ঘোরা এবং মারাত্মক ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপপ্রবাহ নারীদের হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর ওপর পুরুষদের চেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তাদের ওপর গরমের প্রভাবও বেশি পড়ে। এমনকি তাপপ্রবাহে মৃত্যুর ঝুঁকিও নারীদের কিছুটা বেশি।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার (এনএইচএস) জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও নারীস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিঘত আরিফ জানিয়েছেন, নারীদের অধিক গরম লাগার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে: হরমোনের মাত্রার স্বাভাবিক ওঠানামা এবং তাপের প্রতি শরীরের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ঘাম কম হয় এবং তা অপেক্ষাকৃত বেশি তাপমাত্রায় বের হওয়া শুরু করে, ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ দ্রুত বের হতে পারে না। এছাড়া নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ ও অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেশি থাকে, যা তাপ ধরে রাখার আস্তরণ হিসেবে কাজ করে।

নারীদের শারীরিক বিভিন্ন পর্যায়, যেমন—মাসিক চক্র, পেরিমেনোপজ, মেনোপজ, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যপান করানোর সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। হরমোনের এসব ওঠানামা মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। প্রোজেস্টেরন হরমোন বেড়ে যাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায়, ফলে গরম বেশি লাগে। মাসিক চক্রের বিভিন্ন ধাপে হরমোনের হেরফের তাপপ্রবাহের সময় নারীদের ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

ইস্ট্রোজেনের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃৎপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে গরমে অনেক নারী অবসাদ, মাথা ঘোরা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি অসহনীয় ‘হট ফ্ল্যাশ’ ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন। রক্তপাতের ফলে শরীর থেকে আয়রন কমে যায়, যা রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত করে। এতে রক্তনালির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং গরমের উপসর্গগুলো আরও প্রকট হয়। পেরিমেনোপজ ও মেনোপজে থাকা নারীদের মধ্যে হুট করে শরীর গরম হয়ে যাওয়া (হট ফ্ল্যাশ) এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) নিলেও গরমে এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

26 October 2026

বিরোধী দলে থাকতেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবে জামায়াত: প্রশ্ন তাসনিম জারার

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

নারীদের কেন গরম বেশি লাগে? হরমোনের ওঠানামা ও শারীরিক প্রতিক্রিয়াই মূল কারণ

হালনাগাদ সময় : ১১:০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বৃষ্টির পরেও তীব্র গরমের মধ্যে অনেক নারীই অতিরিক্ত হাঁসফাঁস লাগা, খিটখিটে মেজাজ, মাথা ঘোরা এবং মারাত্মক ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপপ্রবাহ নারীদের হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর ওপর পুরুষদের চেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তাদের ওপর গরমের প্রভাবও বেশি পড়ে। এমনকি তাপপ্রবাহে মৃত্যুর ঝুঁকিও নারীদের কিছুটা বেশি।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার (এনএইচএস) জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও নারীস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিঘত আরিফ জানিয়েছেন, নারীদের অধিক গরম লাগার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে: হরমোনের মাত্রার স্বাভাবিক ওঠানামা এবং তাপের প্রতি শরীরের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ঘাম কম হয় এবং তা অপেক্ষাকৃত বেশি তাপমাত্রায় বের হওয়া শুরু করে, ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ দ্রুত বের হতে পারে না। এছাড়া নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ ও অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেশি থাকে, যা তাপ ধরে রাখার আস্তরণ হিসেবে কাজ করে।

নারীদের শারীরিক বিভিন্ন পর্যায়, যেমন—মাসিক চক্র, পেরিমেনোপজ, মেনোপজ, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যপান করানোর সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। হরমোনের এসব ওঠানামা মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। প্রোজেস্টেরন হরমোন বেড়ে যাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায়, ফলে গরম বেশি লাগে। মাসিক চক্রের বিভিন্ন ধাপে হরমোনের হেরফের তাপপ্রবাহের সময় নারীদের ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

ইস্ট্রোজেনের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃৎপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে গরমে অনেক নারী অবসাদ, মাথা ঘোরা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি অসহনীয় ‘হট ফ্ল্যাশ’ ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন। রক্তপাতের ফলে শরীর থেকে আয়রন কমে যায়, যা রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত করে। এতে রক্তনালির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং গরমের উপসর্গগুলো আরও প্রকট হয়। পেরিমেনোপজ ও মেনোপজে থাকা নারীদের মধ্যে হুট করে শরীর গরম হয়ে যাওয়া (হট ফ্ল্যাশ) এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) নিলেও গরমে এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

Share this news as a Photo Card