মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৪১ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নগদের ভবিষ্যৎ ব্যক্তিখাতে? নতুন সরকারের নীতিমালার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

  • হালনাগাদ সময় : ০২:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-কে ব্যক্তিখাতে হস্তান্তর করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের নীতিমালার ওপর নির্ভর করছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আইনি প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি বলেন, সরকার যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো এটি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই বিনিয়োগের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায়ই গভর্নরের সঙ্গে এই বৈঠক করেন ব্যারিস্টার আরমান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে তিনি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের মতো সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন।

ব্যারিস্টার আরমান জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে এবং তারা মূলত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই তারা এখানে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছিলেন এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় তাদের আগ্রহের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনি গভর্নরকে নগদে বিনিয়োগ লাভজনক হবে কি না, তা যাচাই করতে একটি নিরীক্ষা (অডিট) চালানোর আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই নগদে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং তিনি একজন উদ্যোক্তা পরিবারের সদস্য হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাকে বেছে নিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন, “সংসদ সদস্য হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করা কোনো স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করবে না। রাজনীতি করি জনগণের সেবার জন্য—এখানে কোনো আয় নেই। দেশের জন্য কাজ করি। আর পরিবার চালানোর জন্য পেশা হিসেবে আইন চর্চা করি। ঐতিহাসিকভাবেই সংসদ সদস্যরা এমন পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখানে স্বার্থের কোনো দ্বন্দ্ব নেই।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তরিক।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার আরমান নগদে বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পক্ষে গভর্নরের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন।

নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন সরকারের যে সিদ্ধান্ত থাকবে সেই অনুযায়ী কাজ হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক শক্ত অবস্থানে আছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

নগদের ভবিষ্যৎ ব্যক্তিখাতে? নতুন সরকারের নীতিমালার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

হালনাগাদ সময় : ০২:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-কে ব্যক্তিখাতে হস্তান্তর করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের নীতিমালার ওপর নির্ভর করছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আইনি প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি বলেন, সরকার যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো এটি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই বিনিয়োগের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায়ই গভর্নরের সঙ্গে এই বৈঠক করেন ব্যারিস্টার আরমান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, বরং একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে তিনি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের মতো সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন।

ব্যারিস্টার আরমান জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে এবং তারা মূলত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই তারা এখানে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছিলেন এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় তাদের আগ্রহের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনি গভর্নরকে নগদে বিনিয়োগ লাভজনক হবে কি না, তা যাচাই করতে একটি নিরীক্ষা (অডিট) চালানোর আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই নগদে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং তিনি একজন উদ্যোক্তা পরিবারের সদস্য হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাকে বেছে নিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন, “সংসদ সদস্য হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করা কোনো স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করবে না। রাজনীতি করি জনগণের সেবার জন্য—এখানে কোনো আয় নেই। দেশের জন্য কাজ করি। আর পরিবার চালানোর জন্য পেশা হিসেবে আইন চর্চা করি। ঐতিহাসিকভাবেই সংসদ সদস্যরা এমন পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখানে স্বার্থের কোনো দ্বন্দ্ব নেই।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তরিক।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার আরমান নগদে বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পক্ষে গভর্নরের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন।

নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন সরকারের যে সিদ্ধান্ত থাকবে সেই অনুযায়ী কাজ হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক শক্ত অবস্থানে আছে।

Share this news as a Photo Card