মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৪২ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি কৃষি ও মৎস্য খাত: সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ মন্ত্রীর

  • হালনাগাদ সময় : ০৬:৪২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেছেন, সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই তিন খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কৃষি খাতের উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিশ্বের অনেক দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি উর্বর ভূমি, যেখানে বছরজুড়ে ফসল উৎপাদনের অবারিত সুযোগ রয়েছে। এই অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

বাঙালির ঐতিহ্য ও খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মাছ ও ভাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বাঙালির পরিচয়ে এই দুটি উপাদানের বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে কৃষি উৎপাদনে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাগুলোকেও বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আন্তরিক হতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের জলাশয় ও নদ-নদী দখল ও ভরাট হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খাল-বিল ও নদ-নদী মৎস্যসম্পদের প্রধান উৎস। এসব জলাশয় চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা জরুরি।” তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা দেখালে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা ভবিষ্যতে খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি কৃষি ও মৎস্য খাত: সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ মন্ত্রীর

হালনাগাদ সময় : ০৬:৪২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেছেন, সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই তিন খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কৃষি খাতের উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিশ্বের অনেক দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি উর্বর ভূমি, যেখানে বছরজুড়ে ফসল উৎপাদনের অবারিত সুযোগ রয়েছে। এই অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

বাঙালির ঐতিহ্য ও খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মাছ ও ভাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বাঙালির পরিচয়ে এই দুটি উপাদানের বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে কৃষি উৎপাদনে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাগুলোকেও বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আন্তরিক হতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের জলাশয় ও নদ-নদী দখল ও ভরাট হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খাল-বিল ও নদ-নদী মৎস্যসম্পদের প্রধান উৎস। এসব জলাশয় চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা জরুরি।” তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা দেখালে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা ভবিষ্যতে খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Share this news as a Photo Card