মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:০৮ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

চলমান গ্যাস সংকট কমাতে দীর্ঘ পরিকল্পনা পেট্রোবাংলার

  • হালনাগাদ সময় : ০৮:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন বাড়ানোকে শেষ ভরসা মনে করছে পেট্রোবাংলা। ক্রমাগতভাবে দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন কমে যাওয়া, আর এলএনজি আমদানি বাড়ানোর মাঝে বুধবার (১২ নভেম্বর) পেট্রোবাংলা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন কথা জানানো হয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানায়,  ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫০টি ও ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খনন ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনাসহ দেশের বিভিন্ন ব্লকে অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খননের কাজ জোরদার করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা আরও জানায়, তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাপেক্স জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মত ব্লক-৮ এ বাণিজ্যিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। জামালপুরে গ্যাসের রিজার্ভের পরিমাণ ও বিস্তৃতি মূল্যায়ন করতে আরও ২টি (১টি উন্নয়ন ও ১টি অনুসন্ধান) কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)-এর অন্তর্গত হরিপুর গ্যাস ফিল্ডে সিলেট-১০ কূপ খননের সময় ওই এলাকায় জ্বালানি তেলের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। হরিপুরে মজুত করা জ্বালানি তেলের বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন নিশ্চিত করতে সিলেট-১২ তেল কূপ খননের কার্যক্রম চলমান আছে। অপরদিকে দেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ ভোলা এলাকায় প্রাপ্ত গ্যাসের মজুত ও বিস্তৃতি নির্ণয়ে ওই এলাকায় আরও ১৯টি নতুন কূপ খননের কাজ চলছে। ভোলায় প্রাপ্ত গ্যাস সেখানকার ভবিষ্যৎ ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কর্মস্থানসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে পেট্রো বাংলা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগে আবিষ্কৃত হওয়া ভূতাত্ত্বিক অবকাঠামোর গভীর স্তরে গ্যাসের মজুত নির্ণয়ে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতায় তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে ২টি এবং বাপেক্সের আওতায় শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ড ও মোবারকপুর স্ট্রাকচারে ২টি সহ মোট ৪টি গভীর কূপ খননের কাজ চলছে।

এদিকে কাজ দ্রুত শেষ করে বাপেক্সের ৫টি রিগ এবং টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের ৩টি রিগসহ মোট ৮টি রিগ এর মাধ্যমে কূপ খনন করা হচ্ছে। ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ হতে টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের রিগ দিয়ে তিতাস-২৮ উন্নয়ন কূপ খনন কাজ শুরু হবে। এদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারীর মধ্যে বিজিএফসিএল-এর সঙ্গে টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের আরও ১টি রিগের মাধ্যমে তিতাস-৩১ তীপ অনুসন্ধান কূপের খনন শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ভোলা এলাকায় ৫টি কূপ খননে বাপেক্স ও টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের মধ্যে খুব শিগগিরই চুক্তি সই হবে। ফলে ভোলা এলাকায় কূপ খননে আরও একটি রিগ স্থাপন করা হবে বলে পেট্রোবাংল আ জানায়।

পেট্রোবাংলা জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাপেক্সের ৫টি রিগ এবং টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের ৬টি রিগসহ মোট ১১টি রিগ এর মাধ্যমে একই সাথে মোট ১১টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভারের কাজ চলমান থাকবে। বাপেক্সের মাধ্যমে খনন কাজ দ্রুত করতে বাপেক্সের ৫টি রিগের পাশাপাশি আরো ২টি নতুন রিগ কেনার কাজ চলমান রয়েছে।

এই ১১টি কূপের খনন কাজের শেষ করতে পারলে আনুমানিক প্রতিদিন ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের নিজস্ব গ্যাস ক্ষেত্রগুলো হতে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে— যা দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট কমিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে পেট্রোবাংলা আশা প্রকাশ করে বলে বিজ্ঞপিতে উল্লেখ করা হয়।পে

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

চলমান গ্যাস সংকট কমাতে দীর্ঘ পরিকল্পনা পেট্রোবাংলার

হালনাগাদ সময় : ০৮:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন বাড়ানোকে শেষ ভরসা মনে করছে পেট্রোবাংলা। ক্রমাগতভাবে দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন কমে যাওয়া, আর এলএনজি আমদানি বাড়ানোর মাঝে বুধবার (১২ নভেম্বর) পেট্রোবাংলা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন কথা জানানো হয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানায়,  ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫০টি ও ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খনন ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনাসহ দেশের বিভিন্ন ব্লকে অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খননের কাজ জোরদার করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা আরও জানায়, তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাপেক্স জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মত ব্লক-৮ এ বাণিজ্যিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। জামালপুরে গ্যাসের রিজার্ভের পরিমাণ ও বিস্তৃতি মূল্যায়ন করতে আরও ২টি (১টি উন্নয়ন ও ১টি অনুসন্ধান) কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)-এর অন্তর্গত হরিপুর গ্যাস ফিল্ডে সিলেট-১০ কূপ খননের সময় ওই এলাকায় জ্বালানি তেলের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। হরিপুরে মজুত করা জ্বালানি তেলের বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন নিশ্চিত করতে সিলেট-১২ তেল কূপ খননের কার্যক্রম চলমান আছে। অপরদিকে দেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ ভোলা এলাকায় প্রাপ্ত গ্যাসের মজুত ও বিস্তৃতি নির্ণয়ে ওই এলাকায় আরও ১৯টি নতুন কূপ খননের কাজ চলছে। ভোলায় প্রাপ্ত গ্যাস সেখানকার ভবিষ্যৎ ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কর্মস্থানসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে পেট্রো বাংলা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগে আবিষ্কৃত হওয়া ভূতাত্ত্বিক অবকাঠামোর গভীর স্তরে গ্যাসের মজুত নির্ণয়ে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতায় তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে ২টি এবং বাপেক্সের আওতায় শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ড ও মোবারকপুর স্ট্রাকচারে ২টি সহ মোট ৪টি গভীর কূপ খননের কাজ চলছে।

এদিকে কাজ দ্রুত শেষ করে বাপেক্সের ৫টি রিগ এবং টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের ৩টি রিগসহ মোট ৮টি রিগ এর মাধ্যমে কূপ খনন করা হচ্ছে। ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ হতে টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের রিগ দিয়ে তিতাস-২৮ উন্নয়ন কূপ খনন কাজ শুরু হবে। এদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারীর মধ্যে বিজিএফসিএল-এর সঙ্গে টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের আরও ১টি রিগের মাধ্যমে তিতাস-৩১ তীপ অনুসন্ধান কূপের খনন শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ভোলা এলাকায় ৫টি কূপ খননে বাপেক্স ও টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের মধ্যে খুব শিগগিরই চুক্তি সই হবে। ফলে ভোলা এলাকায় কূপ খননে আরও একটি রিগ স্থাপন করা হবে বলে পেট্রোবাংল আ জানায়।

পেট্রোবাংলা জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাপেক্সের ৫টি রিগ এবং টার্ন কি পদ্ধতিতে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক ঠিকাদারের ৬টি রিগসহ মোট ১১টি রিগ এর মাধ্যমে একই সাথে মোট ১১টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভারের কাজ চলমান থাকবে। বাপেক্সের মাধ্যমে খনন কাজ দ্রুত করতে বাপেক্সের ৫টি রিগের পাশাপাশি আরো ২টি নতুন রিগ কেনার কাজ চলমান রয়েছে।

এই ১১টি কূপের খনন কাজের শেষ করতে পারলে আনুমানিক প্রতিদিন ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের নিজস্ব গ্যাস ক্ষেত্রগুলো হতে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে— যা দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট কমিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে পেট্রোবাংলা আশা প্রকাশ করে বলে বিজ্ঞপিতে উল্লেখ করা হয়।পে

Share this news as a Photo Card