মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:২৬ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

খাসোগি হত্যার বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বিরোধী কথা বললেন ট্রাম্প

  • হালনাগাদ সময় : ১১:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কিছুই জানতেন না। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র সফররত যুবরাজের প্রতি ট্রাম্পের এই সমর্থন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুবরাজ খাসোগিকে ‘গ্রেফতার বা হত্যা’ করার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিন সালমানকে পাশে বসিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যে ভদ্রলোকটির কথা বলছেন, তাকে অনেকেই পছন্দ করতেন না—আপনি তাকে পছন্দ করুন বা না করুন, ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, এবং আমরা এটুকু বলেই শেষ করতে পারি।’

বিন সালমান বলেন, খাসোগির মৃত্যুর খবর শোনা ছিল বেদনাদায়ক, তবে তার সরকার ‘তদন্তের সব সঠিক পদক্ষেপই নিয়েছে।’ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্যবস্থাকে উন্নত করেছি যেন এমন কিছু আর কখনও না ঘটে। এটি ছিল একটি বড় ভুল।’

খাশোগি বিষয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিককে বকাঝকা করেন ট্রাম্প। বলেন, তিনি ‘আমাদের অতিথিকে বিব্রত করতে’ প্রশ্ন করেছেন। যুবরাজকে মানবাধিকার বিষয়ে অসাধারণ কাজ করার জন্য প্রশংসা করেন তিনি। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা দেননি।

বিন সালমানকে এভাবে সমর্থন করায় ট্রাম্পকে কঠোর সমালোচনা করেন খাশোগির বিধবা স্ত্রী।

যুবরাজের সফরকে ঘিরে ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক এবং সৌদি নেতৃত্বের সমালোচক খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আবারও উসকে ওঠে। নিজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সাত বছরের বেশি সময় পর প্রথমবার হোয়াইট হাউজ সফরে আসেন যুবরাজ। খাসোগি হত্যার কারণে তার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

পরে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তিনি সৌদি আরবকে নন-ন্যাটো প্রধান মিত্র হিসেবে মনোনীত করছেন। দুই দেশ অস্ত্র বিক্রি, অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ বিষয়ে চুক্তির ঘোষণা দেয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উপসংহার টেনেছিল যে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে আটক বা হত্যা করার অনুমোদন দেন যুবরাজ বিন সালমান। যুবরাজ অপারেশনটি নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রের কার্যত শাসক হিসেবে দায় স্বীকার করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলে তীব্র ঝুলন্ত পার্লামেন্ট: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কারও, কে হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?

28 October 2026

চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে ৩১৮টি বিপজ্জনক রাসায়নিক কনটেইনার: বড় বিস্ফোরণঝুঁকি

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

খাসোগি হত্যার বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বিরোধী কথা বললেন ট্রাম্প

হালনাগাদ সময় : ১১:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কিছুই জানতেন না। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র সফররত যুবরাজের প্রতি ট্রাম্পের এই সমর্থন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুবরাজ খাসোগিকে ‘গ্রেফতার বা হত্যা’ করার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিন সালমানকে পাশে বসিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যে ভদ্রলোকটির কথা বলছেন, তাকে অনেকেই পছন্দ করতেন না—আপনি তাকে পছন্দ করুন বা না করুন, ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, এবং আমরা এটুকু বলেই শেষ করতে পারি।’

বিন সালমান বলেন, খাসোগির মৃত্যুর খবর শোনা ছিল বেদনাদায়ক, তবে তার সরকার ‘তদন্তের সব সঠিক পদক্ষেপই নিয়েছে।’ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্যবস্থাকে উন্নত করেছি যেন এমন কিছু আর কখনও না ঘটে। এটি ছিল একটি বড় ভুল।’

খাশোগি বিষয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিককে বকাঝকা করেন ট্রাম্প। বলেন, তিনি ‘আমাদের অতিথিকে বিব্রত করতে’ প্রশ্ন করেছেন। যুবরাজকে মানবাধিকার বিষয়ে অসাধারণ কাজ করার জন্য প্রশংসা করেন তিনি। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা দেননি।

বিন সালমানকে এভাবে সমর্থন করায় ট্রাম্পকে কঠোর সমালোচনা করেন খাশোগির বিধবা স্ত্রী।

যুবরাজের সফরকে ঘিরে ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক এবং সৌদি নেতৃত্বের সমালোচক খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আবারও উসকে ওঠে। নিজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সাত বছরের বেশি সময় পর প্রথমবার হোয়াইট হাউজ সফরে আসেন যুবরাজ। খাসোগি হত্যার কারণে তার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

পরে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তিনি সৌদি আরবকে নন-ন্যাটো প্রধান মিত্র হিসেবে মনোনীত করছেন। দুই দেশ অস্ত্র বিক্রি, অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ বিষয়ে চুক্তির ঘোষণা দেয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উপসংহার টেনেছিল যে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে আটক বা হত্যা করার অনুমোদন দেন যুবরাজ বিন সালমান। যুবরাজ অপারেশনটি নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রের কার্যত শাসক হিসেবে দায় স্বীকার করেন।

Share this news as a Photo Card