মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:৫১ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

‘কাজেই পরিচয়’, স্পষ্ট করলেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

  • হালনাগাদ সময় : ০৪:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. মোস্তাকুর রহমান তাঁর কর্মপন্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কথা কম, কাজ বেশি – এটাই আমার নীতি।” নতুন গভর্নরের এই বক্তব্যে তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত গভর্নর প্রথমে ডেপুটি গভর্নরদের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হন। এরপর তিনি নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। এই বৈঠকগুলোর পর, দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গভর্নরের বক্তব্য তুলে ধরেন। মুখপাত্র জানান, গভর্নর তাঁর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আরও উল্লেখ করেন যে, গভর্নর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি এই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষত, গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয়ের ওপর তিনি জোর দেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও গভর্নর উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে, বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি জানান।

গভর্নর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

‘কাজেই পরিচয়’, স্পষ্ট করলেন নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

হালনাগাদ সময় : ০৪:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. মোস্তাকুর রহমান তাঁর কর্মপন্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কথা কম, কাজ বেশি – এটাই আমার নীতি।” নতুন গভর্নরের এই বক্তব্যে তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত গভর্নর প্রথমে ডেপুটি গভর্নরদের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হন। এরপর তিনি নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। এই বৈঠকগুলোর পর, দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গভর্নরের বক্তব্য তুলে ধরেন। মুখপাত্র জানান, গভর্নর তাঁর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আরও উল্লেখ করেন যে, গভর্নর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি এই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষত, গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয়ের ওপর তিনি জোর দেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও গভর্নর উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে, বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি জানান।

গভর্নর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Share this news as a Photo Card