মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:০৬ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

আদানিকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের সিদ্ধান্ত

  • হালনাগাদ সময় : ০২:২২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

বকেয়া বিল পরিশোধে দেওয়া আদানির আল্টিমেটাম শেষ হয়েছে সোমবার (১০ নভেম্বর)। বকেয়া ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার না পেলে আজ (১১ নভেম্বর) থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আংশিক, অর্থাৎ ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদানির সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। আদানির দুর্নীতির বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছে। আমরা অন প্রটেস্ট আংশিক পেমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি জানান, বকেয়া বাবদ ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিষ্কার করার বিষয়ে আদানিকে জানানো হয়েছে।

এদিকে পিডিবি জানায়, ইতোমধ্যেই ব্যাংককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পেমেন্ট দেওয়ার জন্য। ব্যাংক এক দফায় দেবে না, চলতি মাসের মধ্যে কয়েক ধাপে ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে।

পিডিবি আরও জানায়, আজ বেলা ১১টা নাগাদ আদানি থেকে ৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, নভেম্বর মাসের শুরুতে বকেয়া পেমেন্টের জন্য চিঠি দিয়ে আল্টিমেটাম দেয় আদানি। এতে বকেয়া ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার ১০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়। চিঠিতে আদানি জানিয়েছিল, পিডিবি বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত করার অধিকার পেয়েছে। যদি ১০ নভেম্বরে মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তাহলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত করা ছাড়া তাদের আর কোনও বিকল্প থাকবে না।

তবে জানা যায়, বকেয়ার পরিমাণ নিয়ে বাংলাদেশ এবং আদানির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আদানি ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার বকেয়া দাবি করলেও বাংলাদেশ বলছে ২৬২ মিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে কয়লার দাম এবং বিলম্ব জরিমানা ইস্যু জড়িত।

প্রসঙ্গত, ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি গ্রুপের ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে গড়ে ৭৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় এবং জুন মাস থেকে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

২০১৭ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তি অনুসারে আদানি গ্রুপের কোম্পানি আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ কিনে নেবে পিডিবি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়। তবে গত বছর ভারতেও সরবরাহের বিকল্প তৈরি করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

আদানিকে ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের সিদ্ধান্ত

হালনাগাদ সময় : ০২:২২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বকেয়া বিল পরিশোধে দেওয়া আদানির আল্টিমেটাম শেষ হয়েছে সোমবার (১০ নভেম্বর)। বকেয়া ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার না পেলে আজ (১১ নভেম্বর) থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আংশিক, অর্থাৎ ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদানির সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। আদানির দুর্নীতির বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছে। আমরা অন প্রটেস্ট আংশিক পেমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি জানান, বকেয়া বাবদ ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিষ্কার করার বিষয়ে আদানিকে জানানো হয়েছে।

এদিকে পিডিবি জানায়, ইতোমধ্যেই ব্যাংককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পেমেন্ট দেওয়ার জন্য। ব্যাংক এক দফায় দেবে না, চলতি মাসের মধ্যে কয়েক ধাপে ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে।

পিডিবি আরও জানায়, আজ বেলা ১১টা নাগাদ আদানি থেকে ৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, নভেম্বর মাসের শুরুতে বকেয়া পেমেন্টের জন্য চিঠি দিয়ে আল্টিমেটাম দেয় আদানি। এতে বকেয়া ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার ১০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়। চিঠিতে আদানি জানিয়েছিল, পিডিবি বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত করার অধিকার পেয়েছে। যদি ১০ নভেম্বরে মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তাহলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত করা ছাড়া তাদের আর কোনও বিকল্প থাকবে না।

তবে জানা যায়, বকেয়ার পরিমাণ নিয়ে বাংলাদেশ এবং আদানির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আদানি ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার বকেয়া দাবি করলেও বাংলাদেশ বলছে ২৬২ মিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে কয়লার দাম এবং বিলম্ব জরিমানা ইস্যু জড়িত।

প্রসঙ্গত, ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি গ্রুপের ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে গড়ে ৭৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় এবং জুন মাস থেকে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

২০১৭ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তি অনুসারে আদানি গ্রুপের কোম্পানি আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ কিনে নেবে পিডিবি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়। তবে গত বছর ভারতেও সরবরাহের বিকল্প তৈরি করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card