মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:৫৯ পূর্বাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপে অন্তর্বর্তী সরকার: ১৪ মাসে বেড়েছে ১.১৩ লাখ কোটি টাকা

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:২৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের বোঝা ক্রমেই ভারী হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৪ মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। আর্থিক খাতের এই ঊর্ধ্বমুখী ঋণ সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যেমন চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনি দেশীয় উৎসগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতাকেও স্পষ্ট করে তুলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল শেষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ছিল ৯ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবর শেষে সেই ঋণের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ১৪ মাসের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পাল্লায় নতুন করে যোগ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হিসেবেও এই ঋণের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারের এই বিশাল ঋণের একটি বড় অংশ জোগান দিচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। মোট ঋণের মধ্যে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাতের ওপর সরকারের এই উচ্চমাত্রার নির্ভরতা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপে অন্তর্বর্তী সরকার: ১৪ মাসে বেড়েছে ১.১৩ লাখ কোটি টাকা

হালনাগাদ সময় : ০৭:২৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের বোঝা ক্রমেই ভারী হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৪ মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। আর্থিক খাতের এই ঊর্ধ্বমুখী ঋণ সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যেমন চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনি দেশীয় উৎসগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতাকেও স্পষ্ট করে তুলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল শেষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ছিল ৯ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবর শেষে সেই ঋণের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ১৪ মাসের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পাল্লায় নতুন করে যোগ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হিসেবেও এই ঋণের প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারের এই বিশাল ঋণের একটি বড় অংশ জোগান দিচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। মোট ঋণের মধ্যে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাতের ওপর সরকারের এই উচ্চমাত্রার নির্ভরতা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card