ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

“নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে ভারত চিরশত্রু”: লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:)

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতকে ‘চিরশত্রু’ আখ্যায়িত করে নতুন প্রজন্মকে সেই “মন্ত্র” শেখানোর আহ্বান জানান।

একইসাথে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে ‘বেইমানি’ না করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

🚨 “ভারত আমাদের চিরশত্রু”

লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) তার বক্তব্যে ভারত সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি এখানেও এই অনুষ্ঠানে বলে যেতে চাই, ভারত আমাদের চিরশত্রু। আমাদের যত শিশু জন্ম নেবে এখন থেকে আমরা সবাই তাদেরকে এটাই মন্ত্র শেখাবো।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নকে থামিয়ে দিতে চায়। তিনি দেশকে যেকোনো ধরনের ‘আধিপত্যবাদের’ কবল থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন এবং বলেন, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধারা ‘খামখেয়ালিপনার জন্য’ রক্ত দেননি।

🏛️ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা

অবসরপ্রাপ্ত এই সামরিক কর্মকর্তা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সম্প্রতি আলোচিত ধর্মীয় বক্তা ড. জাকির নায়েকের বাংলাদেশ সফর বাতিলের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন রাখেন।

তিনি বলেন, “কার প্ররোচনায়, কার বুদ্ধিতে আপনি ডক্টর জাকির নায়েকের আসাটা বন্ধ করে দিলেন?” লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) এই ঘটনাকে সরকারের ‘দুর্বল’ পররাষ্ট্রনীতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতে আম ও মাছ পাঠানোর কূটনৈতিক প্রথার সমালোচনা করে বর্তমান উপদেষ্টাদেরও একই ধরনের কাজের জন্য কটাক্ষ করেন। তিনি এই সমস্ত ‘তামাশা বন্ধ’ এবং ‘জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানি বন্ধ’ করার জন্য জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, “রক্ত দেওয়া হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য… কোনো সেবাদাস তৈরি করার জন্য নয়।”

🇧🇩 সুশাসন ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) তার বক্তব্যে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন, যেখানে সুশাসন ও সমতা নিশ্চিত হবে।

তার দাবিসমূহ:

• সমান অধিকার: তিনি বলেন, “এই দেশে… হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান, পাহাড়ী, বাংলাদেশী—ধর্ম-জাত নির্বিশেষে সকলের অধিকার সমান।”

• স্বাধীন প্রতিষ্ঠান: তিনি একটি স্বাধীন আদালত প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

• জনগণের পুলিশ: তিনি বলেন, “পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে। পুলিশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবে, কোনো রাজনৈতিক দলের ‘চামচা’ হবে না।”

• জনগণের সেবক: তার মতে, সরকারি কর্মকর্তারা হবেন জনগণের সেবক এবং সার্বভৌমত্বের রক্ষক।

তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দালালি করে চুক্তি করে ভারতকে দিয়ে দিলাম আমার দেশ—তাহলে আর বেতন দিচ্ছি আমি আর বেইমানি করছেন?” তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “দলমত নির্বিশেষে ঐক্য দরকার। এই জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই দেশকে পরাজিত করতে পারবে না।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানি চেঞ্জারদের লাইসেন্স নবায়ন ফি দ্বিগুণ, কার্যকর ২০২৬ থেকে

“নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে ভারত চিরশত্রু”: লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:)

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতকে ‘চিরশত্রু’ আখ্যায়িত করে নতুন প্রজন্মকে সেই “মন্ত্র” শেখানোর আহ্বান জানান।

একইসাথে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে ‘বেইমানি’ না করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

🚨 “ভারত আমাদের চিরশত্রু”

লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) তার বক্তব্যে ভারত সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি এখানেও এই অনুষ্ঠানে বলে যেতে চাই, ভারত আমাদের চিরশত্রু। আমাদের যত শিশু জন্ম নেবে এখন থেকে আমরা সবাই তাদেরকে এটাই মন্ত্র শেখাবো।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নকে থামিয়ে দিতে চায়। তিনি দেশকে যেকোনো ধরনের ‘আধিপত্যবাদের’ কবল থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন এবং বলেন, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধারা ‘খামখেয়ালিপনার জন্য’ রক্ত দেননি।

🏛️ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা

অবসরপ্রাপ্ত এই সামরিক কর্মকর্তা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সম্প্রতি আলোচিত ধর্মীয় বক্তা ড. জাকির নায়েকের বাংলাদেশ সফর বাতিলের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন রাখেন।

তিনি বলেন, “কার প্ররোচনায়, কার বুদ্ধিতে আপনি ডক্টর জাকির নায়েকের আসাটা বন্ধ করে দিলেন?” লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) এই ঘটনাকে সরকারের ‘দুর্বল’ পররাষ্ট্রনীতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতে আম ও মাছ পাঠানোর কূটনৈতিক প্রথার সমালোচনা করে বর্তমান উপদেষ্টাদেরও একই ধরনের কাজের জন্য কটাক্ষ করেন। তিনি এই সমস্ত ‘তামাশা বন্ধ’ এবং ‘জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানি বন্ধ’ করার জন্য জোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, “রক্ত দেওয়া হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য… কোনো সেবাদাস তৈরি করার জন্য নয়।”

🇧🇩 সুশাসন ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব:) তার বক্তব্যে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেন, যেখানে সুশাসন ও সমতা নিশ্চিত হবে।

তার দাবিসমূহ:

• সমান অধিকার: তিনি বলেন, “এই দেশে… হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান, পাহাড়ী, বাংলাদেশী—ধর্ম-জাত নির্বিশেষে সকলের অধিকার সমান।”

• স্বাধীন প্রতিষ্ঠান: তিনি একটি স্বাধীন আদালত প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

• জনগণের পুলিশ: তিনি বলেন, “পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে। পুলিশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবে, কোনো রাজনৈতিক দলের ‘চামচা’ হবে না।”

• জনগণের সেবক: তার মতে, সরকারি কর্মকর্তারা হবেন জনগণের সেবক এবং সার্বভৌমত্বের রক্ষক।

তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দালালি করে চুক্তি করে ভারতকে দিয়ে দিলাম আমার দেশ—তাহলে আর বেতন দিচ্ছি আমি আর বেইমানি করছেন?” তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “দলমত নির্বিশেষে ঐক্য দরকার। এই জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই দেশকে পরাজিত করতে পারবে না।”