বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
রবিবার (২ নভেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এদিন ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। এক পর্যায়ে আসামিকে জিজ্ঞেস করা হয় দোষী নাকি নির্দোষ। তখন নিজেকে পুরোপুরি নির্দোষ দাবি করেন হাসানুল হক ইনু। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৮ অক্টোবর আটটি অভিযোগের কিছু পড়ে শোনান ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এক পর্যায়ে কোনও অভিযোগই সত্য নয় জানিয়ে ইনুর অব্যাহতির আবেদন করেন তিনি। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালকে এসব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখার অনুরোধ জানান। তবে ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতা হিসেবে কোনও দায় ইনু এড়াতে পারেন না বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথনের মাধ্যমেও কমান্ড রেসপনসিবিলিটি প্রমাণ করে। তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করা হয়। পরে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যনাল।
গত ২৩ অক্টোবর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। একইসঙ্গে তার বিচার শুরুর প্রার্থনা করেন। ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইনুর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সময় চান আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি বলেছিলেন, এ মামলায় মোট ১ হাজার ৭০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র পড়তে ও প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য আট সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন। পরে আসামির সঙ্গে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে কথা বলার অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
২৫ সেপ্টেম্বর এই জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় সহযোগিতাসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর শুনানিতে আটটি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত।
গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই জাসদ নেতা। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।
পরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ ছিল। কারাগার থেকে আনার পর তার বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জের (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) ওপর শুনানির জন্য এক সপ্তাহ সময় চান প্রসিকিউশন। তবে আসামিপক্ষে আরও দুদিন বাড়িয়ে সময়ের আবেদন করেন নাজনীন নাহার। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ১৪ অক্টোবর ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
রিপোর্টারের নাম 

























