ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: বিএনপিতে বিদ্রোহী কাঁটা, চিন্তিত হাইকমান্ড

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভেতরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্দোলনের সঙ্গী শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা দলের ভোট বিভক্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এরই মধ্যে ৯ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারির মধ্যে তারা সরে না দাঁড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।

সারাদেশে বিএনপির প্রায় শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৬০টিরও বেশি আসনে বড় ধরনের বিদ্রোহী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে প্রভাবশালী নেতারা এখনো ভোটের মাঠে অনড় রয়েছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য অবস্থান:

  • কুমিল্লা: জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই হেভিওয়েট বিদ্রোহীরা রয়েছেন। বিশেষ করে কুমিল্লা-২ আসনে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিপরীতে বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস এম এ মতিন খান এবং কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীর বিপক্ষে আমিন উর রশিদ ইয়াছিন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
  • নারায়ণগঞ্জ: তিনটি আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের মতো নেতারা বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন।
  • পটুয়াখালী-৩: এখানে জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে তার বিপক্ষে কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান মামুন বিদ্রোহী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
  • বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ: বাগেরহাটের তিনটি আসনেই সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন। গোপালগঞ্জে লড়ছেন সাবেক এমপি এম এইচ খান মঞ্জু।

তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। বিএনপি বর্তমানে জেলা পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সরে দাঁড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করতে না পারে, তবে অনেক নিশ্চিত আসনেও ভোট বিভক্তির কারণে জোটের প্রার্থীদের পরাজয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের আগে এই বিদ্রোহী সংকট সমাধানই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: বিএনপিতে বিদ্রোহী কাঁটা, চিন্তিত হাইকমান্ড

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভেতরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্দোলনের সঙ্গী শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা দলের ভোট বিভক্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এরই মধ্যে ৯ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারির মধ্যে তারা সরে না দাঁড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।

সারাদেশে বিএনপির প্রায় শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৬০টিরও বেশি আসনে বড় ধরনের বিদ্রোহী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে প্রভাবশালী নেতারা এখনো ভোটের মাঠে অনড় রয়েছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য অবস্থান:

  • কুমিল্লা: জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই হেভিওয়েট বিদ্রোহীরা রয়েছেন। বিশেষ করে কুমিল্লা-২ আসনে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিপরীতে বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস এম এ মতিন খান এবং কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীর বিপক্ষে আমিন উর রশিদ ইয়াছিন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
  • নারায়ণগঞ্জ: তিনটি আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের মতো নেতারা বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন।
  • পটুয়াখালী-৩: এখানে জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে তার বিপক্ষে কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান মামুন বিদ্রোহী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
  • বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ: বাগেরহাটের তিনটি আসনেই সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন। গোপালগঞ্জে লড়ছেন সাবেক এমপি এম এইচ খান মঞ্জু।

তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। বিএনপি বর্তমানে জেলা পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সরে দাঁড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করতে না পারে, তবে অনেক নিশ্চিত আসনেও ভোট বিভক্তির কারণে জোটের প্রার্থীদের পরাজয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের আগে এই বিদ্রোহী সংকট সমাধানই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।