বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগদানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলটির ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করলেও এখন পর্যন্ত তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি এনসিপি কর্তৃপক্ষ। বরং দলত্যাগীদের মান ভাঙিয়ে পুনরায় সক্রিয় করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দলটির নীতি-নির্ধারকরা।
এনসিপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা দাবি করছেন যে, জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। তবে পদত্যাগীদের অভিযোগ—দলে একক সিদ্ধান্ত ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার ঘোষণা দেয় এনসিপি। এর আগে থেকেই দলের ভেতর এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ চলছিল। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা জোট ইস্যুতে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার স্বামী ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহসহ ১৬ জন প্রভাবশালী নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মওলানা ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী, মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন এবং আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া। এছাড়াও মনিরা শারমিন ও মনজিলা ঝুমার মতো নেত্রীরাও নির্বাচনি মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এনসিপির মুখ্য যুগ্ম সমন্বয়ক মাহাবুব আলম জানান, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যেই তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, “জোটের বিষয়ে প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতার মতামত নেওয়া হয়েছিল। যারা মতপার্থক্যের কারণে দল ছেড়েছেন, আমরা তাদের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে আমরা তাদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে চাই।”
অন্যদিকে, পদত্যাগী নেতাদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নেতা জানান, শুধু জামায়াত ইস্যু নয়, বরং দলের ভেতরে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠনের প্রতিবাদেই তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এনসিপি নেতৃত্ব তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে গণমাধ্যমে কথা বললেও এখন পর্যন্ত পদত্যাগীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপির জন্য এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শীর্ষ নেতাদের প্রস্থান আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























