ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মনোনয়ন ফরম বিক্রি: কার কত আয়?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রির ধুম পড়েছিল। তবে বড় দলগুলোর তুলনায় নতুন ও তরুণদের রাজনৈতিক দলগুলোই ফরম বিক্রি বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই খাতে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় করেছে। প্রতিটি ফরমের সাধারণ মূল্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা এবং কৃষক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের জন্য ২ হাজার টাকা ফি রাখা হয়েছিল। তবে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে এনসিপি শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪৬টি আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।

বিপরীতে, দেশের দুই অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন ফরম বাবদ কোনো অর্থ গ্রহণ করেনি। বিএনপি এ বছর নির্দিষ্ট আসনে প্রতীক বরাদ্দের কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে সাধারণ ফি নেয়নি, যদিও অতীতে ফরম বিক্রি তাদের আয়ের বড় উৎস ছিল। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী ৩০০টি আসনে ফরম বিতরণ করলেও প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি; বরং শর্ত ছিল দলের প্রয়োজনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিও মনোনয়ন ফরম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করেছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তরুণদের আরেক দল গণঅধিকার পরিষদ। তারা ২৭০টি আসনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেছে, যেখানে প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২০ হাজার টাকা। তবে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ফলে তাদের প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত ১০৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫৫টি ফরম বিক্রি করে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, গণসংহতি আন্দোলন ২৬ হাজার টাকা এবং বাসদ ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছে। এবি পার্টিও শতাধিক ফরম বিতরণ করলেও ফি নিয়েছে নামমাত্র।

জোটগত নির্বাচনের কারণে অনেক দল বিপুল সংখ্যক ফরম বিক্রি করলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ফরমের টাকা ফেরত না পাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সিপিবি ও জামায়াতের মতো দলগুলো স্থানীয় সংগঠনের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে। সব মিলিয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রির এই প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তহবিল সংগ্রহের একটি অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করলেও এবার বড় দলগুলোর ‘ফ্রি-ফরম’ বিতরণের সিদ্ধান্ত ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মনোনয়ন ফরম বিক্রি: কার কত আয়?

আপডেট সময় : ০৬:১৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রির ধুম পড়েছিল। তবে বড় দলগুলোর তুলনায় নতুন ও তরুণদের রাজনৈতিক দলগুলোই ফরম বিক্রি বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই খাতে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় করেছে। প্রতিটি ফরমের সাধারণ মূল্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা এবং কৃষক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের জন্য ২ হাজার টাকা ফি রাখা হয়েছিল। তবে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে এনসিপি শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪৬টি আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।

বিপরীতে, দেশের দুই অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন ফরম বাবদ কোনো অর্থ গ্রহণ করেনি। বিএনপি এ বছর নির্দিষ্ট আসনে প্রতীক বরাদ্দের কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে সাধারণ ফি নেয়নি, যদিও অতীতে ফরম বিক্রি তাদের আয়ের বড় উৎস ছিল। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী ৩০০টি আসনে ফরম বিতরণ করলেও প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি; বরং শর্ত ছিল দলের প্রয়োজনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিও মনোনয়ন ফরম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করেছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তরুণদের আরেক দল গণঅধিকার পরিষদ। তারা ২৭০টি আসনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেছে, যেখানে প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২০ হাজার টাকা। তবে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ফলে তাদের প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত ১০৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫৫টি ফরম বিক্রি করে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, গণসংহতি আন্দোলন ২৬ হাজার টাকা এবং বাসদ ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছে। এবি পার্টিও শতাধিক ফরম বিতরণ করলেও ফি নিয়েছে নামমাত্র।

জোটগত নির্বাচনের কারণে অনেক দল বিপুল সংখ্যক ফরম বিক্রি করলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ফরমের টাকা ফেরত না পাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সিপিবি ও জামায়াতের মতো দলগুলো স্থানীয় সংগঠনের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে। সব মিলিয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রির এই প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তহবিল সংগ্রহের একটি অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করলেও এবার বড় দলগুলোর ‘ফ্রি-ফরম’ বিতরণের সিদ্ধান্ত ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।