জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে এক নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এক বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী এখনো নির্বাচনি মাঠে ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও আওয়ামী লীগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নৌকা নেই যেখানে, ভোট নেই সেখানে’—এমন প্রচারণা চালাচ্ছে, তবুও নিজেদের জয়ের পাল্লা ভারী করতে বড় দলগুলো এই নীরব ভোটারদের আকৃষ্ট করার নানামুখী কৌশল নিচ্ছে।
বিগত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোর (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮) তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক ৩০ থেকে ৪৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে জনসমর্থন কমলেও, দলটির একটি বিশাল অংশ এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের ভোট টানতে তিনটি কৌশল বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে: নেতাদের দলে টানা, আইনি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা এখন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দেশপ্রেমিক শক্তির দিকে ধাবিত হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক মিটমাট বা ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর প্রক্রিয়াও অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিএনপি ও জামায়াত রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে আওয়ামী লীগের ভোট বক্সে ভরতে, যা জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
জামায়াতে ইসলামী এবার কৌশলগতভাবে বড় পরিবর্তন এনেছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত হিন্দু ভোটারদের টানতে তারা প্রথমবারের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রার্থীদের গুরুত্ব দিচ্ছে। খুলনা-১ আসনে হিন্দু কমিটির নেতা কৃষ্ণ নন্দীকে এবং বাগেরহাটে বিএনপিও সাবেক আওয়ামী লীগ ঘরানার হিন্দু নেতাদের প্রার্থী করেছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাজীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা গেছে জামায়াত নেতাদের।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, যদি আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা সংঘবদ্ধভাবে কাউকে ভোট দেয়, তবে তা ছোট ব্যবধানের আসনগুলোতে ফলাফল বদলে দিতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এই ভোট শেষ পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবেই পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন নৈতিক মূল্যবোধের চেয়ে সংখ্যার সমীকরণকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























