ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

পূর্বাচলের বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত: শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রাণবন্ত উৎসব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

তীব্র শীতের দাপট উপেক্ষা করে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এই মেলা গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর ছিল। শীতের জড়তা কাটিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে যেন এক উৎসবের আমেজ ফিরে এসেছে। অনেক জায়গায় পা ফেলারও জায়গা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে মেলায়। কেউ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখছেন। গত কয়েকদিন শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় তুলনামূলক ভিড় কম থাকলেও, ছুটির দিনে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অপ্রত্যাশিত ভিড়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্টল মালিক ও কর্মচারীরা।

তুর্কি ফ্যাশনের পরিচালক জায়েদ খন্দকার জানান, “শুরুর দিকে তীব্র শীতের কারণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। তবে ছুটির দিনে মেলার পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। প্রতিটি প্যাভিলিয়নেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়বে।” ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন জমাদ্দারও একই সুর মিলিয়ে বলেন, “শুক্রবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দর্শনার্থী এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে। আগের দিনের তুলনায় বেচাকেনা অনেক বেড়েছে এবং মেলার শেষের দিকে এটি আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”

দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। আড়াইহাজার থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা মিলন মিয়া বলেন, “ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছি। ভিড় বেশি হলেও পরিবেশটা বেশ ভালো। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনেছি। মেলার শেষের দিকে আবার আসার পরিকল্পনা আছে, তখন সাধারণত ছাড় বেশি থাকে।” তবে বাড্ডা থেকে আসা আলিফ হোসাইন নামের এক দর্শনার্থী কিছু পণ্যের দাম বাজারের তুলনায় বেশি মনে করেছেন। তিনি বলেন, “দুপুরের দিকে মেলায় ঢুকেই ভিড় দেখে অবাক হয়েছি। সব প্যাভিলিয়নেই মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে কিছু পণ্যের দাম বাজারের তুলনায় একটু বেশি মনে হয়েছে।”

এ বিষয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, “ছুটির দিনে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই মেলা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারেন এবং দর্শনার্থীরা নিরাপদে মেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, শীতের প্রভাব কাটিয়ে আগামী দিনগুলোতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আরও জমজমাট হবে। পূর্বাচলের এই মেলা এখন কেবল একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র নয়, এটি যেন শীতকালীন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

পূর্বাচলের বাণিজ্য মেলায় জনস্রোত: শীতের জড়তা কাটিয়ে প্রাণবন্ত উৎসব

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র শীতের দাপট উপেক্ষা করে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এই মেলা গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর ছিল। শীতের জড়তা কাটিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে যেন এক উৎসবের আমেজ ফিরে এসেছে। অনেক জায়গায় পা ফেলারও জায়গা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে মেলায়। কেউ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখছেন। গত কয়েকদিন শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় তুলনামূলক ভিড় কম থাকলেও, ছুটির দিনে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অপ্রত্যাশিত ভিড়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্টল মালিক ও কর্মচারীরা।

তুর্কি ফ্যাশনের পরিচালক জায়েদ খন্দকার জানান, “শুরুর দিকে তীব্র শীতের কারণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। তবে ছুটির দিনে মেলার পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। প্রতিটি প্যাভিলিয়নেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়বে।” ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন জমাদ্দারও একই সুর মিলিয়ে বলেন, “শুক্রবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দর্শনার্থী এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে। আগের দিনের তুলনায় বেচাকেনা অনেক বেড়েছে এবং মেলার শেষের দিকে এটি আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”

দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। আড়াইহাজার থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা মিলন মিয়া বলেন, “ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছি। ভিড় বেশি হলেও পরিবেশটা বেশ ভালো। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনেছি। মেলার শেষের দিকে আবার আসার পরিকল্পনা আছে, তখন সাধারণত ছাড় বেশি থাকে।” তবে বাড্ডা থেকে আসা আলিফ হোসাইন নামের এক দর্শনার্থী কিছু পণ্যের দাম বাজারের তুলনায় বেশি মনে করেছেন। তিনি বলেন, “দুপুরের দিকে মেলায় ঢুকেই ভিড় দেখে অবাক হয়েছি। সব প্যাভিলিয়নেই মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে কিছু পণ্যের দাম বাজারের তুলনায় একটু বেশি মনে হয়েছে।”

এ বিষয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, “ছুটির দিনে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই মেলা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারেন এবং দর্শনার্থীরা নিরাপদে মেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, শীতের প্রভাব কাটিয়ে আগামী দিনগুলোতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আরও জমজমাট হবে। পূর্বাচলের এই মেলা এখন কেবল একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র নয়, এটি যেন শীতকালীন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।