ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

যশোরে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় জেলায় দুই দিনে শীতজনিতসহ রোগে অসুস্থ দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে তারা মারা যান। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মারা যাওয়া এই রোগীদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তারা ঠান্ডাজনিত ও ফুসফুসে সংক্রমণজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে তাদের স্বজনেরা জানিয়েছেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে নানা রোগ নিয়ে ২৯০ রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৫৪ জনই শিশু।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুসপ্তাহ ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনে কুয়াশা ও বাতাসে শীতের দাপট রয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে, শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালে মারা যাওয়া মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির ছেলে শামসুজ্জামান জানান, ঠান্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।

মারা যাওয়া শেখ সদরুল আলম নামে আরেক রোগীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। এ ছাড়া গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে ১০ জন মারা গেছেন। শীতে ফুসফুস সংক্রমণ এবং অন্য বিভিন্ন সমস্যার কারণে বয়স্কদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় তার পরামর্শ, ঠান্ডার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেটা ঘরে হোক বা বাইরে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একদিনে দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যাটা হয়তো একটু বেশি। তবে তারা সবাই শীতের কারণে মারা যাননি। তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

যশোরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় জেলায় দুই দিনে শীতজনিতসহ রোগে অসুস্থ দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে তারা মারা যান। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মারা যাওয়া এই রোগীদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তারা ঠান্ডাজনিত ও ফুসফুসে সংক্রমণজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে তাদের স্বজনেরা জানিয়েছেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে নানা রোগ নিয়ে ২৯০ রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৫৪ জনই শিশু।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুসপ্তাহ ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনে কুয়াশা ও বাতাসে শীতের দাপট রয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে, শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালে মারা যাওয়া মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির ছেলে শামসুজ্জামান জানান, ঠান্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।

মারা যাওয়া শেখ সদরুল আলম নামে আরেক রোগীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। এ ছাড়া গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে ১০ জন মারা গেছেন। শীতে ফুসফুস সংক্রমণ এবং অন্য বিভিন্ন সমস্যার কারণে বয়স্কদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় তার পরামর্শ, ঠান্ডার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেটা ঘরে হোক বা বাইরে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একদিনে দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যাটা হয়তো একটু বেশি। তবে তারা সবাই শীতের কারণে মারা যাননি। তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে।