ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে ছিনতাই হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৬

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল হোতাসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণ ও একটি মোটরসাইকেল।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে সিএমপির পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিএমপির উপ-কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো– সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাস (৩৮) ও বিবেক বণিক (৪২)।

পুলিশ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি ভোর ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ তার সঙ্গে আরও দুই জনকে নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় কোতয়ালি থানাধীন সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে পাঁচলাইশ থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তদন্ত শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস, মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করে, তার নেতৃত্বেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয়। লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তার স্ত্রী পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাস এবং চাচাতো ভাই রবি কুমার দাসের কাছে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রবি কুমার দাসকে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে পান্না রানী দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বণিককে কোতয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাই করা ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে পান্না রানী দাসের কাছে এবং পরে রবি কুমার দাসের কাছে রাখা হয়। রবি কুমার দাস স্বীকার করেন, তিনি স্বর্ণগুলো তার বোন সাক্ষী প্রতিমা দাসের কাছে রেখে যান।

এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার বাসা থেকে একটি কাগজের বাক্সে মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

সিএমপির উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, উদ্ধার করা ২৯০ ভরি স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় জড়িত আরও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

চট্টগ্রামে ছিনতাই হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৬

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল হোতাসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণ ও একটি মোটরসাইকেল।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে সিএমপির পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিএমপির উপ-কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো– সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাস (৩৮) ও বিবেক বণিক (৪২)।

পুলিশ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি ভোর ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ তার সঙ্গে আরও দুই জনকে নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় কোতয়ালি থানাধীন সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে পাঁচলাইশ থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তদন্ত শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস, মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করে, তার নেতৃত্বেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয়। লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তার স্ত্রী পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাস এবং চাচাতো ভাই রবি কুমার দাসের কাছে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রবি কুমার দাসকে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে পান্না রানী দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বণিককে কোতয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাই করা ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে পান্না রানী দাসের কাছে এবং পরে রবি কুমার দাসের কাছে রাখা হয়। রবি কুমার দাস স্বীকার করেন, তিনি স্বর্ণগুলো তার বোন সাক্ষী প্রতিমা দাসের কাছে রেখে যান।

এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার বাসা থেকে একটি কাগজের বাক্সে মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

সিএমপির উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, উদ্ধার করা ২৯০ ভরি স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় জড়িত আরও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।