ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরে বোমা বানাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ২ নিহত, আটক ৩, নেপথ্যে রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের জাজিরায় হাতবোমা বানাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ এবং ৫৩ জন নামীয় ও দেড় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বকে এই বিস্ফোরণের নেপথ্য কারণ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের একটি নবনির্মিত বসতঘরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩২ বছর বয়সী সোহান ব্যাপারী প্রাণ হারান, যার হাত কব্জিসহ উড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ২৮ বছর বয়সী নবীন হোসেনও মারা যান। এছাড়া নয়ন মোল্লাসহ আরও দুই জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সোহান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে এবং নবীন হোসেন একই এলাকার রহিম সরদারের ছেলে।

ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড হওয়া ঘর এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গান পাউডার, জর্দার টিনের কৌটা, মার্বেল, তারকাটা, স্কচটেপ, পাথরের গুঁড়ো, ধানের তুষ, পাউডার মেশানোর ব্লেন্ডারসহ ককটেল তৈরির শত শত সরঞ্জাম উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়। জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এর আগে আদালতের নির্দেশে বিগত সময়ে উদ্ধারকৃত ৪০টি অবিস্ফোরিত বোমাও ডিসপোজাল টিমের সহায়তায় ধ্বংস করা হয়েছিল।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে জাজিরা থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। জাজিরা থানার ওসি তদন্ত আব্দুস সালাম দেওয়ান জানান, আটককৃত তিন জনের মধ্যে দুই জনকে এরইমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। এই দু’পক্ষের মধ্যে প্রায়শই দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান ও নবীন এবং আহতরা চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। যে নবনির্মিত বসতঘরে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে সাগর ব্যাপারীর। ঘটনার পর থেকে সাগর পলাতক রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

শরীয়তপুরে বোমা বানাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ২ নিহত, আটক ৩, নেপথ্যে রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব

আপডেট সময় : ০৭:৪২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরায় হাতবোমা বানাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ এবং ৫৩ জন নামীয় ও দেড় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বকে এই বিস্ফোরণের নেপথ্য কারণ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের একটি নবনির্মিত বসতঘরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩২ বছর বয়সী সোহান ব্যাপারী প্রাণ হারান, যার হাত কব্জিসহ উড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ২৮ বছর বয়সী নবীন হোসেনও মারা যান। এছাড়া নয়ন মোল্লাসহ আরও দুই জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সোহান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে এবং নবীন হোসেন একই এলাকার রহিম সরদারের ছেলে।

ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড হওয়া ঘর এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গান পাউডার, জর্দার টিনের কৌটা, মার্বেল, তারকাটা, স্কচটেপ, পাথরের গুঁড়ো, ধানের তুষ, পাউডার মেশানোর ব্লেন্ডারসহ ককটেল তৈরির শত শত সরঞ্জাম উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়। জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এর আগে আদালতের নির্দেশে বিগত সময়ে উদ্ধারকৃত ৪০টি অবিস্ফোরিত বোমাও ডিসপোজাল টিমের সহায়তায় ধ্বংস করা হয়েছিল।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে জাজিরা থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। জাজিরা থানার ওসি তদন্ত আব্দুস সালাম দেওয়ান জানান, আটককৃত তিন জনের মধ্যে দুই জনকে এরইমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। এই দু’পক্ষের মধ্যে প্রায়শই দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান ও নবীন এবং আহতরা চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। যে নবনির্মিত বসতঘরে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে সাগর ব্যাপারীর। ঘটনার পর থেকে সাগর পলাতক রয়েছেন।