ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: প্রশ্নফাঁস চক্রের ১১ সদস্য আটক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাও গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই একটি সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কয়েকজন ভুয়া পরীক্ষার্থী। তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে পৃথক দুটি অভিযানে নাগেশ্বরী উপজেলা শহরের কাজী মার্কেটের পেছনের একটি বাসা এবং থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে উদ্ধারকৃত প্রশ্নপত্রের ফটোকপির সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের মিল আছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নামের একজন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। তিনি একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদে রয়েছেন। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত আটক বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি, তবে তাদের মধ্যে প্রকৃত পরীক্ষার্থী এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানে কাজী মার্কেটের পেছনের একটি বাসা থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিনারুল ইসলামসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ব্যবহার করে উত্তরপত্র তৈরির কাজে লিপ্ত ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, তাদের মধ্যে মিনারুলসহ চারজনই এই চক্রের মূল সদস্য। এছাড়া, পৃথক একটি অভিযানে থানার সামনে একটি গাড়ির গতিরোধ করে চালকসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, আটক মিনারুল ইসলাম তাদের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার ফজলে রাব্বি নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এসপি নিশ্চিত করেছেন যে, আটককৃতদের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থী উভয়েই আছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: প্রশ্নফাঁস চক্রের ১১ সদস্য আটক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাও গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই একটি সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কয়েকজন ভুয়া পরীক্ষার্থী। তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে পৃথক দুটি অভিযানে নাগেশ্বরী উপজেলা শহরের কাজী মার্কেটের পেছনের একটি বাসা এবং থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে উদ্ধারকৃত প্রশ্নপত্রের ফটোকপির সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের মিল আছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নামের একজন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। তিনি একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদে রয়েছেন। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত আটক বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি, তবে তাদের মধ্যে প্রকৃত পরীক্ষার্থী এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানে কাজী মার্কেটের পেছনের একটি বাসা থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিনারুল ইসলামসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ব্যবহার করে উত্তরপত্র তৈরির কাজে লিপ্ত ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, তাদের মধ্যে মিনারুলসহ চারজনই এই চক্রের মূল সদস্য। এছাড়া, পৃথক একটি অভিযানে থানার সামনে একটি গাড়ির গতিরোধ করে চালকসহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, আটক মিনারুল ইসলাম তাদের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনার পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার ফজলে রাব্বি নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এসপি নিশ্চিত করেছেন যে, আটককৃতদের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থী উভয়েই আছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।