যশোরে হাড়কাঁপানো শীত ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের প্রত্যেকের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সবাই ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত একদিনে নতুন করে ২৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শতাধিক রোগীই এসেছেন শীতকালীন রোগ নিয়ে, যার মধ্যে ৫৪ জনই শিশু। শুক্রবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ জানান, বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মূলত প্রচণ্ড শীতের কারণে ফুসফুসের সংক্রমণ ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরেই জেলাটিতে তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না, যা শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে জেলাজুড়ে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও সর্দি-কাশির প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। ৫ মাস বয়সী এক শিশুর মা মিতা বেগম জানান, তীব্র শীতে তার সন্তানের জ্বর ও সর্দি হওয়ায় চারদিন ধরে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। আসমা নামের আরেক মা জানান, তার শিশুসন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, মৃতদের স্বজনদের কণ্ঠে শোকের মাতম শোনা গেছে। মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান জানান, ভোরে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তার বাবাকে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন জানান, তার মা ১০ দিন ধরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় ভোগার পর গত রাতে মারা যান। এছাড়া সাবেক এক শিক্ষিকাও ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন।
শীতের এই আকস্মিক প্রকোপে যশোরের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























