ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত এমপি একরামুজ্জামানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ভিডিও বার্তায় ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান সুখন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেন, “প্রিয় নাসিরনগরবাসী, আপনারা অবগত আছেন, ২০০৪ সাল থেকে আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে দাখিল করা আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। আমি আপনাদের সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি, যেন যেকোনও পরিস্থিতিতে আপনাদের পাশে থাকতে পারি। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। তারেক রহমান জিন্দাবাদ। বেগম খালেদা জিয়া অমর হোক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অমর হোক।”

উল্লেখ্য, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং একসময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অংশ নেওয়ায় ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলার ছড়ি’ প্রতীক নিয়ে ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা বোট ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন একরামুজ্জামান। ঐ সভায় নাসিরনগর উপজেলার প্রায় ৩০০ জন জনপ্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন।

এর আগে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনবারই তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত এমপি একরামুজ্জামানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ভিডিও বার্তায় ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৩:২০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান সুখন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেন, “প্রিয় নাসিরনগরবাসী, আপনারা অবগত আছেন, ২০০৪ সাল থেকে আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে দাখিল করা আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। আমি আপনাদের সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি, যেন যেকোনও পরিস্থিতিতে আপনাদের পাশে থাকতে পারি। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। তারেক রহমান জিন্দাবাদ। বেগম খালেদা জিয়া অমর হোক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অমর হোক।”

উল্লেখ্য, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং একসময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অংশ নেওয়ায় ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলার ছড়ি’ প্রতীক নিয়ে ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা বোট ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন একরামুজ্জামান। ঐ সভায় নাসিরনগর উপজেলার প্রায় ৩০০ জন জনপ্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন।

এর আগে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনবারই তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।