ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে নীলফামারী: ৯.৪ ডিগ্রিতে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের অন্যতম সর্বনিম্ন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ মিটার গতিতে বাতাস বইছিল। দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে দেড় থেকে ২০০ মিটারে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আরও কয়েকদিন মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

গত তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। দুপুরের পর থেকেই চারদিক ঢেকে যাচ্ছে ঘন কুয়াশার চাদরে। ফলে জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জেলায় হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো শিশির কণা ঝরছে, যা জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষেরা। শহরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড়ের রিকশাচালক আবু তালেব, লিটন ও মমিনুর জানান, গত কয়েকদিন ধরে যাত্রী না থাকায় তাদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষরা তীব্র শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পাননি।

তীব্র কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন ও মোটরসাইকেল। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরাও শীতের কারণে স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়ছেন।

তীব্র শীতের প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে ভিড় করছেন।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, শীতজনিত রোগের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে নীলফামারী: ৯.৪ ডিগ্রিতে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

আপডেট সময় : ০৩:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের অন্যতম সর্বনিম্ন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ মিটার গতিতে বাতাস বইছিল। দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে দেড় থেকে ২০০ মিটারে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আরও কয়েকদিন মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

গত তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। দুপুরের পর থেকেই চারদিক ঢেকে যাচ্ছে ঘন কুয়াশার চাদরে। ফলে জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জেলায় হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো শিশির কণা ঝরছে, যা জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষেরা। শহরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড়ের রিকশাচালক আবু তালেব, লিটন ও মমিনুর জানান, গত কয়েকদিন ধরে যাত্রী না থাকায় তাদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষরা তীব্র শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পাননি।

তীব্র কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন ও মোটরসাইকেল। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরাও শীতের কারণে স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়ছেন।

তীব্র শীতের প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে ভিড় করছেন।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, শীতজনিত রোগের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন।