ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তরাঞ্চলে হাড় কাঁপানো শীত: তেঁতুলিয়ায় ৬.৯ ডিগ্রি, রংপুরে ১৫ জনের মৃত্যু, আসছে আরও শৈত্যপ্রবাহ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চল। হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। চলতি শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যা নেমে এসেছে ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই তীব্র শীতে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৭ জন বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে আরও দুটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। শুধু তেঁতুলিয়াই নয়, রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও তাপমাত্রা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। নীলফামারীর ডিমলায় ৯ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৯.৮ ডিগ্রি, রংপুরে ৯.৬ ডিগ্রি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯.৪ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১০.৩ ডিগ্রি ও গাইবান্ধায় ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

তাপমাত্রা কমে আসার পাশাপাশি সূর্যের দেখা মিলছে খুব কম। দু-এক ঘণ্টার জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তাতে কোনো উষ্ণতা নেই। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, মধ্যরাত থেকে বেশির ভাগ জেলায় বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে এবং সেই সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সারাদিনই হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সরদার অফিসের মমতাজ উদ্দিন ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, শিশু বিভাগের ৩টি ওয়ার্ডসহ মেডিসিন ওয়ার্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি আছে। ফলে হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতরে-বাইরে, ফ্লোরে কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে।

এদিকে, এবার আগাম শীতের তীব্রতা বাড়লেও সহায়-সম্বলহীন হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষদের জন্য শীতবস্ত্র ও শিশুদের গরম কাপড় বিতরণে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে রংপুর ত্রাণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। রংপুর বিভাগীয় প্রশাসকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, শীতবস্ত্র বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ এসেছে। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোও এবার তেমনভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করছে না। শীত নিবারণের জন্য হতদরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনির হোসেন অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তীব্র শীতের কারণে শিশুদের সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত গরম পোশাকে রাখা এবং ঠাণ্ডা যেন না লাগে সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে ‘রাতের ভোট’ হবে ইতিহাস: আলী রিয়াজ

উত্তরাঞ্চলে হাড় কাঁপানো শীত: তেঁতুলিয়ায় ৬.৯ ডিগ্রি, রংপুরে ১৫ জনের মৃত্যু, আসছে আরও শৈত্যপ্রবাহ

আপডেট সময় : ০৩:১২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চল। হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। চলতি শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যা নেমে এসেছে ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই তীব্র শীতে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৭ জন বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে আরও দুটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। শুধু তেঁতুলিয়াই নয়, রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও তাপমাত্রা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। নীলফামারীর ডিমলায় ৯ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৯.৮ ডিগ্রি, রংপুরে ৯.৬ ডিগ্রি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯.৪ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১০.৩ ডিগ্রি ও গাইবান্ধায় ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

তাপমাত্রা কমে আসার পাশাপাশি সূর্যের দেখা মিলছে খুব কম। দু-এক ঘণ্টার জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও তাতে কোনো উষ্ণতা নেই। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, মধ্যরাত থেকে বেশির ভাগ জেলায় বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে এবং সেই সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সারাদিনই হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সরদার অফিসের মমতাজ উদ্দিন ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, শিশু বিভাগের ৩টি ওয়ার্ডসহ মেডিসিন ওয়ার্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি আছে। ফলে হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতরে-বাইরে, ফ্লোরে কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে।

এদিকে, এবার আগাম শীতের তীব্রতা বাড়লেও সহায়-সম্বলহীন হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষদের জন্য শীতবস্ত্র ও শিশুদের গরম কাপড় বিতরণে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে রংপুর ত্রাণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। রংপুর বিভাগীয় প্রশাসকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, শীতবস্ত্র বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বরাদ্দ এসেছে। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোও এবার তেমনভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করছে না। শীত নিবারণের জন্য হতদরিদ্র মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনির হোসেন অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তীব্র শীতের কারণে শিশুদের সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত গরম পোশাকে রাখা এবং ঠাণ্ডা যেন না লাগে সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখা প্রয়োজন।