প্রায় ছয় বছর ধরে অচল থাকা সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসফিল্ডের ১ নম্বর কূপে নতুন একটি স্তরে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এখান থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস, আর কূপটিতে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ঘনফুট মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এর চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং সিলেট গ্যাসফিল্ড কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, সিলেট গ্যাসফিল্ডের অধীনে কৈলাশটিলা এলাকায় মোট নয়টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬১ সালে ১ নম্বর কূপে প্রথম গ্যাস মেলে। একবার বন্ধ থাকার পর ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন হয়। ২০২৩ সাল থেকে দেশের পুরনো কূপগুলোতে নতুন করে ওয়ার্কওভার শুরু হয়। সিলেট গ্যাসফিল্ডের ১৪টি কূপের মধ্যে সাতটির ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে এবং সাতটিতেই নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
কৈলাশটিলা-১ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভার শেষে গ্যাস মজুদ নিশ্চিত করে সিলেট গ্যাসফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুল জলিল প্রামানিক জানান, আরও কিছু কাজ বাকি আছে, যা শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, দুই-তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কূপটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। প্রায় চার মাস আগে বাপেক্স কূপটির ওয়ার্কওভার শুরু করে এবং প্রায় ২২ হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের সন্ধান পায়।
এদিকে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট গ্যাসফিল্ডের রশিদপুরের ৩ নম্বর পুরনো কূপ থেকে নতুন করে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের কূপগুলো দৈনিক গড়ে ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে।
এর আগে গত বছরের ২২ অক্টোবর সিলেট গ্যাসফিল্ডের ৭ নম্বর কূপে খনন শেষে গ্যাস পাওয়া যায়, যেখান থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন চলছে। একই বছরের ২৪ মে কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ৮ নম্বর কূপে খনন শেষে দৈনিক ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মেলে।
সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের আওতায় চলমান কয়েকটি প্রকল্প দ্রুত শেষ হলে এবং অন্যান্য কূপে আশানুরূপ গ্যাস পাওয়া গেলে কোম্পানিটি প্রতিদিন ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ব্যয়ে অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভার কাজ চলছে।
গত বছরের ২৭ জানুয়ারি রশিদপুরের ২ নম্বর কূপে নতুন স্তরের গ্যাস মেলে, যার পরিমাণ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট। তারও আগে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর হরিপুরের ১০ নম্বর কূপে গ্যাস পাওয়া যায়। একই বছরের ২২ নভেম্বর কৈলাশটিলার পরিত্যক্ত ২ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।
১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে এসজিএফএল-এর অধীনে হরিপুর, রশিদপুর, ছাতক, কৈলাশটিলা ও বিয়ানীবাজারসহ পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যার মধ্যে ছাতক গ্যাসফিল্ড পরিত্যক্ত।
রিপোর্টারের নাম 

























