সকল জল্পনা-কল্পনা ও হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনেই নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে বেসরকারিভাবে জেলার সবকটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই বিজয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা এটিকে জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ে ৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর থেকে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, এই বিজয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ের প্রতিফলন এবং বরিশালে বিএনপির ঐতিহাসিক ঘাঁটির প্রমাণ। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এই বিজয়কে জনগণ ও গণতন্ত্রের বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এ অঞ্চল যে বিএনপির ঘাঁটি, জনগণ তা ভোটের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করলো।”
আসনের বিস্তারিত ফলাফল:
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): এই সংসদীয় আসনে মোট ১২৯টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। জহির উদ্দিন স্বপন ৫৪ হাজার ২৮৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এ আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ২০৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৭৩ হাজার ৯৮৯টি ‘না’ ভোট পড়েছে, যেখানে কাস্টিং ভোটের হার ছিল ৬১.১১ শতাংশ।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): মোট ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মন্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮২ ভোট। সান্টু ৬৭ হাজার ৫৪০ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। এখানে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৮০ হাজার ৯৬৬টি ‘না’ ভোট পড়েছে।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় ঘরে তুলেছে দলটি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। জয়নুল আবেদীন ১৮ হাজার ৭৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। মোট ১২৬টি ভোটকেন্দ্রে ১ লাখ ২২ হাজার ৩০৫টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৪০ হাজার ৬৩৬টি ‘না’ ভোট পড়েছে।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ): এই আসনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব আহসান প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। ১৪৯টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। রাজিব আহসান ৫৩ হাজার ৬৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৬৪ হাজার ৫১১টি ‘না’ ভোট পড়েছে।
বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর): বরিশালের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে ১৭৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। সরোয়ার ৪০ হাজার ১০২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ আসনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৬৯ হাজার ৩৯৪টি ‘না’ ভোট পড়েছে।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): এই আসনে মোট ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮২ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট। আবুল হোসেন খান ২৬ হাজার ২২৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এখানে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৪টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ৪১ হাজার ৭০০টি ‘না’ ভোট পড়েছে।
ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন বলেন, জেলার ৬টি আসন থেকে ফলাফল সংগ্রহ করে চূড়ান্ত বার্তা প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে। তিনি আরও জানান, বরিশালে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















