ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরার ৪ আসনে ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত: ভরাডুবি জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে তার আসনের মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এই কোটা পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। সাতক্ষীরার চারটি আসনেই ১১ জন প্রার্থী এই পরিমাণ ভোট সংগ্রহ করতে পারেননি।

জামানত হারানোদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির ৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪ জন এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজিপি) একজন করে প্রার্থী।

আসনভিত্তিক চিত্র:

সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া):
এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭টি। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ৪৬ হাজার ১৩৭ ভোটের প্রয়োজন ছিল। তবে জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (২,৫৪৪ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. রেজাউল করিম (২,০৭১ ভোট) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ ইয়ারুল ইসলাম (৭১৫ ভোট) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।

সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা):
আসনটিতে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে জামানত টেকাতে প্রয়োজন ছিল ৪৮ হাজার ৭২৮ ভোট। এখানে জাতীয় পার্টির মো. আশরাফুজ্জামান (৪,২৭৮ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের মুফতি রবিউল ইসলাম (১,৯৭৬ ভোট) এবং বাংলাদেশ জাসদের মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী (৩১৭ ভোট) পর্যাপ্ত ভোট পাননি।

সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ–আশাশুনি):
এ আসনে বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ২৩৩টি। জামানত রক্ষায় ৪৩ হাজার ৭৭৯ ভোটের প্রয়োজন থাকলেও জাতীয় পার্টির মো. আলিপ হোসেন (৭২২ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের মো. ওয়েজ কুরনী (২,৪৯৭ ভোট) এবং বিএমজিপির রুবেল গাইন (৫৮৩ ভোট) তা সংগ্রহ করতে পারেননি।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর):
মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৮৩টি। জামানত রক্ষার জন্য ২৪ হাজার ৭৯৮ ভোটের বিপরীতে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুর রশিদ পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের এস এম মোস্তফা আল মামুন পেয়েছেন ৪ হাজার ৯০২ ভোট।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন— গাজী নজরুল ইসলাম, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার ও মো. ইজ্জত উল্লাহ।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৬টি। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হৃদয়ের সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ

সাতক্ষীরার ৪ আসনে ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত: ভরাডুবি জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে তার আসনের মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এই কোটা পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। সাতক্ষীরার চারটি আসনেই ১১ জন প্রার্থী এই পরিমাণ ভোট সংগ্রহ করতে পারেননি।

জামানত হারানোদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির ৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪ জন এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজিপি) একজন করে প্রার্থী।

আসনভিত্তিক চিত্র:

সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া):
এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭টি। জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ৪৬ হাজার ১৩৭ ভোটের প্রয়োজন ছিল। তবে জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (২,৫৪৪ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. রেজাউল করিম (২,০৭১ ভোট) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ ইয়ারুল ইসলাম (৭১৫ ভোট) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।

সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা):
আসনটিতে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে জামানত টেকাতে প্রয়োজন ছিল ৪৮ হাজার ৭২৮ ভোট। এখানে জাতীয় পার্টির মো. আশরাফুজ্জামান (৪,২৭৮ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের মুফতি রবিউল ইসলাম (১,৯৭৬ ভোট) এবং বাংলাদেশ জাসদের মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী (৩১৭ ভোট) পর্যাপ্ত ভোট পাননি।

সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ–আশাশুনি):
এ আসনে বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ২৩৩টি। জামানত রক্ষায় ৪৩ হাজার ৭৭৯ ভোটের প্রয়োজন থাকলেও জাতীয় পার্টির মো. আলিপ হোসেন (৭২২ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের মো. ওয়েজ কুরনী (২,৪৯৭ ভোট) এবং বিএমজিপির রুবেল গাইন (৫৮৩ ভোট) তা সংগ্রহ করতে পারেননি।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর):
মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৮৩টি। জামানত রক্ষার জন্য ২৪ হাজার ৭৯৮ ভোটের বিপরীতে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুর রশিদ পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের এস এম মোস্তফা আল মামুন পেয়েছেন ৪ হাজার ৯০২ ভোট।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি আসনেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন— গাজী নজরুল ইসলাম, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার ও মো. ইজ্জত উল্লাহ।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৬টি। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।