ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফ কায়েমের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও বৈষম্যের স্থান হবে না। একটি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই গর্বের সাথে নিজেদের পরিচয় দিতে পারবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশের মাধ্যমেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমের সূচনা করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, “আমরা নিজেরা চাঁদা নেব না এবং অন্য কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেব না। একইভাবে আমরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগও দেব না।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারকে আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হতে দেওয়া হবে না। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিজয় কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠীর হবে না, বরং এটি হবে সাধারণ মানুষের বিজয়।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন কার্ড প্রদানের প্রতিশ্রুতির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, কেবল কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কোনো পরিবারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকার বাইরেও সমাজে এক ধরনের ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ বা চাঁদাবাজি প্রচলিত আছে, যা ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাইকেই দিতে হয়। এই অশুভ সংস্কৃতি বন্ধ করার ওপর তিনি জোর দেন।

বিগত শাসনামলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে ইনসাফ না থাকার কারণেই গত সাড়ে ১৫ বছরে দুর্নীতিবাজ ও ব্যাংক ডাকাতরা নির্বিঘ্নে অর্থ পাচার করে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে দেশকে রক্তক্ষয়ী জনপদে পরিণত করা হয়েছিল এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো কলঙ্কিত বন্দিশালা তৈরি করে নিরপরাধ মানুষকে গুম করা হয়েছে। নিখোঁজ অনেক ব্যক্তির হদিস আজও মেলেনি উল্লেখ করে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হলেও দুপুরের পর থেকেই মিরপুর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মানুষের উপস্থিতি সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এ সমাবেশ সমাপ্ত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফ কায়েমের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

আপডেট সময় : ১০:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও বৈষম্যের স্থান হবে না। একটি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই গর্বের সাথে নিজেদের পরিচয় দিতে পারবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশের মাধ্যমেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমের সূচনা করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, “আমরা নিজেরা চাঁদা নেব না এবং অন্য কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেব না। একইভাবে আমরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগও দেব না।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারকে আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হতে দেওয়া হবে না। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিজয় কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠীর হবে না, বরং এটি হবে সাধারণ মানুষের বিজয়।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন কার্ড প্রদানের প্রতিশ্রুতির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, কেবল কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কোনো পরিবারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকার বাইরেও সমাজে এক ধরনের ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ বা চাঁদাবাজি প্রচলিত আছে, যা ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাইকেই দিতে হয়। এই অশুভ সংস্কৃতি বন্ধ করার ওপর তিনি জোর দেন।

বিগত শাসনামলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে ইনসাফ না থাকার কারণেই গত সাড়ে ১৫ বছরে দুর্নীতিবাজ ও ব্যাংক ডাকাতরা নির্বিঘ্নে অর্থ পাচার করে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে দেশকে রক্তক্ষয়ী জনপদে পরিণত করা হয়েছিল এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো কলঙ্কিত বন্দিশালা তৈরি করে নিরপরাধ মানুষকে গুম করা হয়েছে। নিখোঁজ অনেক ব্যক্তির হদিস আজও মেলেনি উল্লেখ করে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হলেও দুপুরের পর থেকেই মিরপুর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মানুষের উপস্থিতি সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এ সমাবেশ সমাপ্ত হয়।